৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

সাংবাদিকতায় রক্তাক্ত আবু বকর সিদ্দীক

সৈয়দ মুন্তাছির রিমন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,ফ্রান্স।

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ০৮ ২০২১, ১৬:৫৯ | 773 বার পঠিত

সাংবাদিক? কে সাংবাদিক? কারা সাংবাদিক? কারা নিরাপদ?কেন নিরাপদ? প্রশ্ন খুঁজতে গিয়ে গায়ের পশম গুলো মনের অজান্তে ভয়ে জেগে উঠে। কিন্তু সাংবাদিকতা একটি মহান পবিত্র পেশা। এই পেশায় জীবনের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি বিদ্যমান। তবুও কেন মানুষ এই পেশায় আত্নঃনিয়োগ করে? বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতায় চার শ্রেণীর মানুষ নিয়োজিত হয়। এক-বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে দেশ ও জাতিকে ভালোবেসে সমাজের অন্যায়, অবিচার, দূর্নীতি,  বৈষম্য,  অসামাজিক কার্যকলাপ পরির্বতনের মন-মানষিকতার প্রতিরোধ চেতনায়। দুই-রাজনৈতিক বলয়ের অপরাদ কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে সাংবাদিকতার জগতকে অভয়াশ্রম  হিসেবে বেছে নেয়। তিন-সখের বশত সাংবাদিকতায় প্রবেশ করার পর নেশা হয়ে যাওয়া পেশায় পরিণত হয়। চার-বাণিজ্যিক মনোভাব বা চেতনায় প্রবেশ।
তবে অধিকাংশ সাংবাদিক প্রথমে সখের বশত কাজ শুরু করে। তারপর সেটি বিবেকের দায়বদ্ধতা হয়ে উঠার পর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়। তখন সাংবাদিক পিছন ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে। মানে সাংবাদিকতা ছেড়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে চেষ্টা করে। কিন্তু একজন কলমশিল্পী বুঝতে পারেনা এই পেশা তার নেশায় পরিণত হয়ে গেছে। যে নেশা তাকে রাষ্ট্রযন্ত্রে সরকারের চরিত্র ও সমাজের বাস্তবতার দেয়াবন্দী করে ফেলে। সে না সামনের দিকে এগুতে পারে না পিছনের দিকে। কারণ সাংবাদিকতার বিবেকের দায়বদ্ধতা নামক আদালতে একজন কলমযোদ্ধা আটকে পড়ে। তাদেরকে দেশ ও জাতির মুক্তির পথ উন্মোচন করতে হয়।
আমি যখন আমার সাংবাদিকতার দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেছিল তখন সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দীক এর সাথে দেখা হয়েছিল ২০১৫/১৬ সাল হবে। তখন এলাকাটি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া অঞ্চল ছিল ও যতদূর মনে পড়ে রাত্র ১০ ঘটিকা শহর। আমার সাথে ন্সেহাশীষ সাংবাদিক ইউসুফ আহমদ ইমন আগত সাংবাদিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। তারপর অনেকক্ষণ চায়ের আড্ডাবাজীর সাথে সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি তিনি যে একটি ঘটনার অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কুলাউড়ায় আগমণ করেছেন। তারপর আড্ডা শেষে সেখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসি। এর বছরখানিক পর আমার একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরি করার দায়িত্ব আসে। সেটি মৌলভীবাজারের এক প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতার নারী সংক্রান্ত বিষয়। সেই ঘটনার নারীর আবাসস্থল ছিল গাজীপুর। তখন ঘটনার সত্যতা ও বিকটিমের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে গাজীপুরে যেতে হয়। অনুসন্ধানে যাওয়ার পথিমধ্যে সাংবাদিক আবুবকর সিদ্দীক ভাইয়ের সাথে ফোনালাপ হয়। তার অবস্থান জানতে চাইলে তিনি এলাকায় আছেন বলে জানান। কিন্তু তাকে ঘটনার বিবরণ না দিয়ে সংকেত দিতে সক্ষম হই যে আমরা উনার এলাকায় অবস্থান করছি। তিনি বিজ্ঞজনের মতো সংকেত দিলেন কাজ শেষে অফিসে চায়ের দাওয়া দিলাম আর অপেক্ষায় আছি।
তারপর গাজীপুরে অনুসন্ধানে এলাকার প্রভাবশালীদের যে দাণ্ডব প্রত্যক্ষ করেছি তার প্রতিটি সেকেন্ডে মৃত্যুর যন্ত্রণা অনুভব করেছি। সাংবাদিকতায় প্রত্যক্ষ অনুসন্ধানে ঘটনার কেন্দ্রস্থলের পরিবেশ সব সময় পর্যবেক্ষকের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তা না হলে একজন সাংবাদিকের জীবন বিপন্ন হয়। তাই এই কৌশল ছিল আমার সাংবাদিকতার মূল অস্ত্র। তারপর ঘটনার অনুসন্ধান শেষে গাজীপুরে সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দীক ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। তাহার সাথে চায়ের আলাপচারীতায় ঘটনাস্থলের কিছু বিবরণ দিতেই তিনি চমকে উঠেন। আমার গায়ে চিমটি কেটে বলেন আপনি জীবিত ফিরলেন কিভাবে? আমি দূর্নীতি, মাধক ও নারী ব্যবসার সিন্ডিকেটদের নজর রাখছি। সময় সুযোগে প্রকাশ করবো। কিন্তু গত ২০ জানুয়ারী সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দীকের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। তিনি সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গাজীপুর জেলার সভাপতি, এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও সদর প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সন্ত্রাসী হামলায় তার দুই হাত ও পায়ে গুরুতর  জখম হয়। কিন্তু এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
তবে সহজ ভাষায় প্রশ্ন জাগে কেন সাংবাদিক হামলা, মামলা, নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়? আমাদের গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতায় বার বার বাকরূদ্ধ গণমাধ্যম। প্রসাশন ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়ে দূর্নীতি ও অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে সাংবাদিক নিরাপদ। তবে যারা সাংবাদিকতার মৌলিক আদর্শ্যকে লালন করে দেশ ও জাতিকে ভালবেসে পেশায় আত্নঃনিয়োগ করেন তাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকারময় অধ্যায়। ঠিক তেমনি একজন সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দীক। অপরাদ চক্রের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষার উদ্দেশ্যে এবং গণতন্ত্র-মানবতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। আমরা তার উপর সন্ত্রাসী আক্রমনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করে দায়িত্ব শেষ করেছি। আজো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এই সমাধানের জন্য রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্ত রাষ্ট্র যখন গণতন্ত্রহীন হয়ে অন্যায় অবিচার ও ফ্যাসিবাদী আচার-আচরণে মেতে উঠে তখন সত্য উচ্চারণ গুলো বার বার রক্তাক্ত হওয়া স্বাভাবিক। তাই দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য গণতন্ত্র, মানবতা, সুশাসন, ন্যায় বিচার ও বাক-স্বাধীনতা রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। আর সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দীকের জীবনের নিরাপত্তার দাবী জানাচ্ছি।
Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4667944আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 4এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET