২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • দেশজুড়ে
  • ৬ ডিসেম্বর কলারোয়ায় হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন




৬ ডিসেম্বর কলারোয়ায় হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ০৬ ২০১৯, ১৯:৪৫ | 873 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় যথাযথ মর্যাদায় হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন হয়েছে।  শুক্রবার (০৬ ডিসেম্বর ১৯) সকালে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধীস্থলে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ  ও সম্মান প্রদর্শন করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস সংলগ্ন থেকে সকল দেশ প্রেমি  সুশীল সমাজের নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের  অংশগ্রহণ   সন্মান জানিয়ে একটি র‌্যালী বের হয়ে  উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অডিটরিয়াম হলরুম প্রাঙ্গণে  আলোচনা সভায় এসে শেষ হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা-কলারোয়া, সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।  প্রাধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে যারা জীবন শ্রম দিচ্ছে দেশ প্রেমিবান্ধব এ সরকার তাদেরকে সর্বোচ্চ সন্মান দিচ্ছে। স্বাধীন এ বাংলার সার্বভৌম রক্ষায় ইতিহাস ঐতিহ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মুক্তিযোদ্ধারা । আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও চর্চা করতে হবে ”। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি বিএম নজরুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল গাফফার,  উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, জাসদ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আব্দুর রউফ সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক কমান্ডার সৈয়দ আলী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের প্রতিনিধি আশরাফুজ্জামান বাবু এপিপি সভাপতি সাতক্ষীরা জেলা জর্জকোর্ট।

এসময় বক্তারা কলারোয়ার ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্থানী সেনাবাহিনীকে হটিয়ে অবরুদ্ধ কলারোয়াকে হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত করে স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলন করে।

সূত্র মতে, মহান মুক্তিযুদ্ধের কলারোয়ায় ৩শ’৪৩ জন বীর সন্তান অংশ নেন। শহীদ হন ২৭জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এর মধ্যে কলারোয়ার বীর সন্তান রয়েছে ৯জন। আর এ পর্যন্ত কলারোয়ার ৮টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে কলারোয়ায় পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয় ৬টি স্থানে। প্রতিটি যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে পাকবাহিনীকে পরাস্থ করেন। কলারোয়া অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধা পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে শতাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত প্রবাসী সংগ্রাম পরিষদ।

এই সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন এমসিএ মমতাজ আহম্মেদ, ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্লাহ, সাবেক সংসদ বিএম নজরুল ইসলাম, যুদ্ধকালিন কমান্ডার মোসলেম উদ্দীন, শ্যামাপদ শেঠ, ইনতাজ আহম্মেদ, মোছলদ্দীন গাইন ও ডাঃ আহম্মদ আলী। কলারোয়া এলাকাটি ছিলো মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরের অধীনে। পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ পরিচালনা করেন কলারোয়ার দুই বীরযোদ্ধা মোসলেম উদ্দীন ও আব্দুল গফ্ফার। এই দুই বীরযোদ্ধার নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন কলারোয়ার বীর সন্তান গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ আলী গাজী, আবুল হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও আঃ রউফসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে সংগঠিত রক্তক্ষয়ী ওই যুদ্ধে ৬শতাধিক পাকিস্থানী সেনা নিহত হন। কলারোয়ায় হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি বড় ধরনের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধেই ২৯ জন পাকিস্থানী সেনা নিহত হয়। শহীদ হয় ১৭জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর কলারোয়ার সীমান্ত এলাকা কাঁকডাঙ্গা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে হানাদাররা কাঁকডাঙ্গার ঘাটি ছাড়তে বাধ্য হয়। অক্টোবরের শেষদিকে মুক্তিযোদ্ধারা যশোরের বাগআঁচড়ায় দুঃসাহসিক হামলা চালিয়ে ৭ পাক রেঞ্জারকে হত্যা করেন। কলারোয়ার খোরদো এলাকাও একই সাথে মুক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধারা। কলারোয়ার বীর যোদ্ধাদের ধারাবাহিক সফল অপারেশনের মুখে কোনঠাসা হয়ে পড়ে পাক বাহিনী। কিন্তু পাক বাহিনী যখন বুঝতে পারে পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করে। এরই অংশ হিসেবে ৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কলারোয়ার বেত্রবতী নদীর লোহার ব্রিজ মাইন দিয়ে ধ্বংস করে পাকসেনারা পালিয়ে যায়।

এভাবে দীর্ঘ ৯ মাস কলারোয়ার বিভিন্ন স্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে অবশেষে ৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনারা কলারোয়া ছাড়তে বাধ্য হয়। ৬ডিসেম্বর এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা কলারোয়াকে মুক্ত করেন। সাথে সাথে কলারোয়া থানা চত্বরে স্বাধীনদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

স্বাগত বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা  গোলাম মোস্তফা, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা তাহের মাহমুদ সোহাগ উপজেলা সমবায় অফিসার নওশের আলী, উপজেলা সাংবাদিক পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ‘জয়যাত্রা টেলিভিশনে’র সাংবাদিক  ফারুক রাজ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম লিটন, ক্রীড়া সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হোসাইন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক সুশীল সমাজের নাগরিক ও বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET