কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে ৩টি বসতঘর ভাংচুর করে গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবার বাঁধা দিলে নারী-পুরুষসহ ৩ জনে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় খোলা আকাশের নিচে জীবন-যাপন করছে ভূক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আব্দুল মতিন সাজু প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল হক তুহিনকে প্রধান আসামী করে ১৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৫০ জনের নামে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। হামলায় নারীসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছে। আহতরা হলো: ভুক্তভোগি আব্দুল মমিন সুজন, আব্দুল মতিন সাজু ও সাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে গুরুতর আহত সুজন ও সাজুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফ হোসাইন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মামলার আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন।
থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাতিসা গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে আমিনুল হক তুহিন গংদের সাথে ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন সাজুদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জেরে গত শনিবার বিকেলে প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল হক তুহিন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আব্দুল মতিন সাজু ও তার অপর ভাইদের তিনটি টিনশেড ঘর, বাড়ীর টিনের সীমান প্রাচীর, ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র ভাংচুর, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নগদ অর্থ, দামী জিনিসপত্র ও মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করেছে। এতে ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, আকষ্মিক সন্ত্রাসী হামলায় বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনটি পরিবার অসহায়ের মত খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অবিলম্বে প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল হক তুহিন সহ সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগির পরিবার।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি আব্দুল মতিন এর বৃদ্ধ মা ছেনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন আমরা দাওয়াতে গিয়েছিলাম। গত শনিবার মাদক ব্যবসায়ী তুহিনের নেতৃত্বে কমপক্ষে ১০০ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন আমার বাড়ীকে অতর্কিত হামলা করে আমার তিন ছেলের বসতঘরগুলো ভাংচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, মূল্যবান কাগজপত্র সহ ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এতে ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে আমরা বাড়ীতে আসলে তারা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের উপরও হামলা করে। এতে আমার দুই ছেলে আব্দুল মমিন, আব্দুল মতিন এবং পুত্রবধূ শারমিন গুরুতর আহত হয়। আমি অবিলম্বে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
গুরুতর আহত শারমিন আক্তার বলেন, এ বাড়িতে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই মাদক ব্যবসায়ী তুহিনের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। গত দেড় বছরে তুহিনের নেতৃত্বে আমাদের উপর অন্তত তিনবার হামলা হয়েছে। তাদের এমন অত্যাচার-অনাচারে আজ আমরা জর্জরিত। আমার স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে ওইদিন আমিও হামলার শিকার হয়েছি। আমার একটি হাত ভেঙে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করছি।
এ ব্যাপারে জখমী আব্দুল মমিন সুজন বলেন, আমার বাবা ১৯৯৬ সালে উক্ত জায়গা ক্রয় করেছেন। এরপর থেকে প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা এ জায়গায় বাড়িঘর নির্মাণ করে আমরা ৩ ভাই বসবাস করছি। ৫ আগস্ট ২০২৪ সরকার পরিবর্তনের পর এই পর্যন্ত ৩ বার হামলা করে আমাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আমাদেরকেও মারধর করে আহত করেছে। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই শনিবার বিকালে বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের বাড়ি-ঘর গুড়িয়ে দিয়ে আমাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। আমি বাঁধা দিলে আমাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত ও আমার ভাই ও তার স্ত্রীকেও মারধর করে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা চৌদ্দগ্রাম থানায় প্রত্যেকটা ঘটনায় মামলা দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল হক তুহিন জানান, মৃত আবদুল খালেকের ছেলেরা জোরপূর্বক ভাবে আমাদের জায়গাদখল করে রেখেছে। আমি সামাজিক ভাবে চেষ্টা করে তা সমাধান করতে পারিনি। তাই আমার পৈত্রিক সম্পত্তি এলাকাবাসীকে নিয়ে দখলদার থেকে উদ্ধার করেছি।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন, বাতিসার হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Please follow and like us:









