কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার আহত যুবক বিল্লাল হোসেন (২৪) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে কুমিল্লার একটি বেসরকারি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ২৪ জুলাই বিকেলে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত বিল্লাল হোসেন একই গ্রামের আব্দুল হামিদের একমাত্র ছেলে। বিল্লাল পেশায় মিশুক চালক ও দুই ছেলে সন্তানের জনক। বুধবার(৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক লিটন চাকমা তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ২৪ জুলাই হামলার ঘটনায় বিল্লালের পিতা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ৪ জনকে বিদাদী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে
বিল্লালের চাচা জহির জানান, চলাচলের রাস্তায় উল্লেখিত দিনে প্রতিবেশি জয়নাল আবেদীন ছেলেরাসহ বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন চলাচলের রাস্তার বেড়া সরাতে এলে প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোজাম্মেলের দা’এর কোপের মাথায় গুরুতর আহত হয় মিশুক চালক ভাতিজা বিল্লাল হোসেন। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সাত দিন পর গত রাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত বিল্লালের পিতা আব্দুল হামিদ বলেন, চলাচলের রাস্তার বেড়া সরাতে গিয়ে আমার ছেলের মাথায় জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোজাম্মেলের দা’এর কোপ লাগে। এতে আমার একমাত্র ছেলেটাকে হারাই। আমি খুনীদের বিচার চাই।
বিবাদী মোজাম্মেল হোসেন এর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ঝগড়ার সময় আমার ছেলে হাতে মোবাইল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এখন তারা বলছে আমার ছেলের হাতের দা’এর কোপে বিল্লাল মারা যায়। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঝগড়ার সময় তাদের অস্ত্রের আঘাতে তাদের পক্ষের লোক মারা যায়।
মোজাম্মেলের চাচা আবদুল হান্নান বলেন, ঝগড়ার সময় আমার ভাতিজার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। আব্দুল হামিদ গং কে চলাচলের জন্য আমার বড় ভাই তার বাড়ির সামনের দিক দিয়ে একটি রাস্তা দেয়। সমাজের বিচারকদের সিদ্ধান্তে বাড়ির পেছনের রাস্তাটি বন্ধ করে দিতে গেলে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আরিফ হোসাইন বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
Please follow and like us:









