১১ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • ইতিহাস ঐতিহ্য
  • আঠারো’শ বছর আগের ভরত রাজার দেউল হয়ে উঠতে পারে ভিন্ন মাত্রার পর্যটন কেন্দ্র। 




আঠারো’শ বছর আগের ভরত রাজার দেউল হয়ে উঠতে পারে ভিন্ন মাত্রার পর্যটন কেন্দ্র। 

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, চুকনগর.খুলনা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ০৯ ২০২২, ১৮:৩০ | 935 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

চলো না ঘুরে আসি অজানাতে! অনুসন্ধানী মনের জানালা খুলতে বা ভ্রমণ পিপাসু মনের ক্ষুধা মেটাতে আমরা সবাই প্রতি বছর কোনো না কোনো দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে বের হই। ভ্রমণ যাদের নেশা, বেড়ানোর সুযোগ এলে তারা পাখা মেলে উড়িয়ে দেন মনের পর্যটক সত্ত্বাকে।

গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরত ভায়নায় অবস্থিত ভরতের দেউল পর্যটকদের জন্য হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান।  ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর এলাকা হতে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ভদ্রা নদীর তীরে গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরত ভায়না গ্রামে ভরতের দেউল অবস্থিত। রাজা দশরথের দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী কৈকেয়ীর গর্ভজাত পুত্র ভরত রাজার নাম অনুসারে ভরতের দেউল নামকরণ করা হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। খুলনা ও যশোর জেলার সীমান্তের ভদ্রা নদীর পশ্চিম তীরে ঐতিহাসিক ও প্রাচীন যুগের অনেক নিদর্শন নিয়ে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রতিক হিসাবে কালের স্বাক্ষী হয়ে প্রায় আঠারো’শ বছর আগে থেকে স্বগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ভরত রাজার এই দেউল। অনেকটা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মত দেখতে এই প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনটি।

উপজেলা সদর থেকে ইঞ্জিন ভ্যান অথবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল যোগে অনায়াশে পৌঁছানো যায় এই দেউলে। খ্রিষ্টীয় ২য় শতকে নির্মিত হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। ১৯২৩ সালের ১০ জানুয়ারী তৎকালীন সরকার এটাকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করেন।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেউলের খনন কাজ চালায়। খননের ফলে দেউলের পূর্ণ অবয়ব মানুষের দৃষ্টিতে আসে। বর্তমান দৃশ্যমানেও যার উচ্চতা ৫০ফুটের উপরে। ২৬৬মিটার পরিধি বিশিষ্ট পাদদেশ থেকে ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে। এর প্রথম অংশে বিভিন্ন আকারের স্থাপনা, দ্বিতীয় অংশে একটি মঞ্চ, তৃতীয় অংশে মূল মন্দির। খননের ফলে দেউলের ভিত থেকে চূড়া পর্যন্ত ৯৪টি কক্ষ দেখা যায়। স্থাপনাটির ৪ পার্শ্বে বর্ধিত আকারে ১২টি কক্ষ অনুমান করা যায়। বাকী ৮২টি কক্ষ ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে। দেউলটির চূড়ায় ৪টি কক্ষ এবং পার্শ্বে ৮টি কক্ষ রয়েছে। স্থাপনাটির গোড়ার দিকে ৪ পার্শ্বে ৩ মিটার চওড়া রাস্তা রয়েছে। খনন কালের মধ্যে পোড়া মাটির তৈরি নারীর মুখমন্ডল, দেবদেবীর নৃত্যের দৃশ্য সম্বলিত টেরাকোটার ভগ্নাংশ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের এ যাবৎ প্রাপ্ত টেরাকোটার মধ্যে এটি বৃহৎ আকৃতির। তাছাড়া নকশা করা ইট, মাটির ডাবর, পোড়া মাটির গহনার মূর্তি পাওয়া যায়। এ অঞ্চলে অন্য কোন পুরাকীর্তিতে এত বড় আকারের ইট ব্যবহৃত হয়নি। এসব নকশা করা ইট, মাটির ডাবর, পোড়া মাটির গহনার মূর্তির ভগ্নাংশ সমুহ সাগরদাঁড়ী মধুপল্লীর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে ভরত রাজার দেউল হতে পারে ভিন্ন মাত্রার পযর্টনকেন্দ্র। এছাড়াও কেশবপুর উপজেলা বিভিন্ন দিক দিয়ে সু-প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। এখানে কবি সাহিত্যিক নবাবের বসত বাড়ি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি মির্জানগর হাম্মামখানাসহ জমিদার ও রাজাদের রাজত্বের অনেক দর্শনীয় স্থান। সুযোগ পেলেই যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন এই পর্যটনের লীলাভূমি।

এবিষয়ে খুলনা বিভাগীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের রিজিওনাল ডাইরেক্টর (আরডি) আফরোজা খান মিতা বলেন, পুরাকীর্তি হিসাবে ওই দেউলকে সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সেনিটেশন ব্যবস্থাসহ দেউলকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় করে গড়ে তোলার চিন্তা রয়েছে।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET