একবিংশ শতাব্দীতে সবচেয়ে মানবিক বিপর্যয়ে নাম করোনাকাল। বিশ্বের ইতিহাসে কোন যুগে এরকম বিপর্যয় মানব সভ্যতা সম্মুখিন হয়নি। প্রতিটি সংকটময় পরিস্থিতি এক সাথে পৃথিবী নামক গ্রহে আঘাত করতে সক্ষম হয়নি। এর আগে মানব জাতি সম্মুখ যুদ্ধ বা পরিস্থিতি সরাসরি মোকাবেলা করেছে। কিন্ত করোনাকাল সম্পুর্ন একটি ভিন্ন পরিস্থিতি। আজকের গোটা মানব জাতি অদৃশ্যের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। নবমন্ডল ও ভূমণ্ডলে নেই বারুদের গন্ধ, নেই কাস্টার বোমা, পারমাণবিক বোমা, সমুদ্রে যুদ্ধতরি কিংবা অস্ত্র হাতে সেনাবাহিনীর মহড়া এবং রক্তের হুলি খেলা। তবুও সেনাবাহিনী সদস্যদের বিচরন ও লাশের মিছিলে বাকরুদ্ধ সভ্যতা।
করোনায় ইতিবৃত্ত কি? আমরা মানবজাতি এতো দিনের আধুনিক সভ্যতার বীজ বপন করে বিজয় উল্লাস করেছি তা কি ব্যর্থতায় পরিণত হলো? এই হিসেবটা সময়ের কাছে রেখে দিলাম। তবে উন্নত দেশ গুলো এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সর্বোচ্চ শ্রম, মেধা ও শক্তি ব্যয় করেছে। ইউরোপে খুব কাছ থেকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার কৌশল দেখেছি। ইউরোপের প্রত্যেকটি দেশের সরকার প্রধান পিতা-মাতার মতো জনগণকে বুকে আগলে রেখেছেন। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের সাথে লড়াই করেছেন। দেশের সকল অনুষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক খেলা-ধূলা বন্ধ ঘোষণা করেন। সকলের খাদ্য ,বাসস্থান, ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক ঋণ, সকল প্রকার টেক্স স্থগিত করে। প্রতিটি সরকার সত্যিকার ভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার মধ্যে ফ্রান্স সরকার অন্যতম। এমনিতেই ফ্রান্স মানবতার স্বর্গ রাজ্য। মানবিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সব সময় বদ্ধ পরিকর ও সচেষ্ট। যখন পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্র করোনা মোকাবেলায় হিমশিম তখন ফ্রান্স সরকার দায়িত্বশীল ভুমিকায় উপনীত হয়। এক এক রাষ্ট্রিয় কৌশল নির্ধারণ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। করোনায় লকডাউনের মাঝে গনপরিবহন বাস, ট্রেন, ট্রাম ও মেট্টো চলেছে যতারীতি। দেশের জনগন ও প্রসাশন ছিল যথেচ্ছ সচেতন। প্রতিদিন এ্যাম্বুলেন্সের শব্দ ও সাড়ি সাড়ি লাইনে লাশের মিছিলে স্তব্ধ হয়নি মানবতা। বরং বীরের মতো লড়াই করে গেছেন চিকিৎসক, নার্স, সেবাকর্মী, প্রসাশন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারক ও খাবার ডেলিবারি কর্মী। সর্বোপরি এদেশের জনগণ খুব সচেতন। নিজ চোখে না দেখলে মানবতা কলমের ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এবার আমার জন্মভূমির কথা বলি। আমার দেশে সততা, আদর্শ্য অতঃপর দেশপ্রেম কাল হয়ে উঠে। রাজনীতির ছত্রছায়ায় প্রতিদিন খুন হয় মানবতা। দূর্নীতি, নারী-মদ হয়ে উঠে চেতনা বিলাসী। আর যারাই আলিঙ্গন করে তারা পেয়ে যায় স্বর্গ কিংবা সুশীল সমাজের খেতাব। প্রকৃত বাক স্বাধীনতা টর্চার সেলে দর কষাকষিতে আত্ম হত্যার পথ খুঁজে বেড়ায়। ধানমন্ডি বার বার হুংকার দিয়ে বলে যায় অভিশাপ। নির্লজ্জ বাঙালি! “রেখেছে বাঙালি করে মানুষ করেনি”।
আমরা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন দেশ অর্জন করি। ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ নারীর সঞ্চমের বিনিময়ে লাল-সবুজ পতাকার অধিকারী হই। আসলে আমরা কি স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করতে পেরেছি? যে আশা ও স্বপ্ন নিয়ে বুকের তাজা রক্ত বিসর্জন দিয়েছি। আমরা কি মানুষের মতো মানুষ হতে পেরেছি? আজকাল এসব প্রশ্নই যেনো অবান্তর। এই করোনাকালে খুন, ধর্ষণ, লুটতারাজ ও দূর্নীতি হয়ে উঠেছে নিত্যসঙ্গী। পিপি পড়ে ডাকাতি ও সমাজ সেবা করা হয়েছে ফ্যাশন। মসজিদ ও বিপণি বিতান গুলো লকডাউনের আওতার বাহিরে না ভিতরে তা নিয়ে চলে দর কষাকষি। সরকারী অনুদান গুলো কাগজ-কলমে আবাসন খুঁজে। প্রকৃত হত দরিদ্ররা জীবিকার তাগিদে দিশেহারা হয়ে আশ্রয় চায়। কিন্ত দেশের স্বজনপ্রীতি রাজনীতির ছন্দাবরনে ঢাকা পড়ে মানবতা। করোনায় চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে বাণিজ্য। অংশীদারিত্বের কাছে ভাটা পড়ে জনগণের বেচেঁ থাকার মৌলিক দাবী চিকিৎসা সেবা। করোনার দূর্নীতির চিত্র প্রকাশ করতে গিয়ে জেল-জুলুমের শিকার সাংবাদিক। পুলিশের পিটুনিতে অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নান নিহতের ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে রিপোর্ট প্রকাশ করায় উল্টো সেই পুলিশ সদস্যরা নরসিংদীর তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়েছে। এই তিন সাংবাদিকের মধ্যে খন্দকার শাহীন আমার ঘনিষ্ঠজন। তারা উভয় মামলার পর পরই গ্রেফতারে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। খন্দকার শাহীনের সাথে অনেক স্মৃতি বিজড়িত আছে। একজন তরুণ বস্তুনিষ্ঠা সাংবাদিক। যে সরকার তার শাসনামলে দূর্নীতির মাধ্যমে গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতাকে হত্যা করে ক্ষমতায় ঠিকে থাকতে চায় সেখানে জননিরাপত্তা কতোটুকু নিরাপদ তা প্রশ্ন রয়ে যায়। আর মানবতা যেনো স্বপ্নে পাওয়া রাজত্ব।









