আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ধানের শীষের সমর্থনে গুইমারা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন সর্বাত্মক গণসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দাবি জনগণের কাছে তুলে ধরা এবং ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা পাহাড়ের উঁচুনিচু আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারদের দোরগোড়ায়।
গুইমারা উপজেলার পাড়ার বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে চলে এক ভিন্নধর্মী গণসংযোগ। মাঠে কাজরত কৃষকদের কাঁধের বোঝা কমাতে ও তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতেই ধান কাটার কাজে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ। তার সঙ্গে ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নবী হোসেন, আবু বক্কর সওদাগর, জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম-সম্পাদক সালমান হোসেন, যুবদলের আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক দিদারুল হৃদয়, মহিলা দলের নেত্রী নুর জাহান বেগমসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
তাদের উপস্থিতিতে মাঠে জমে ওঠে ব্যস্ততা। নেতাকর্মীরা কাঁচি হাতে ধান কাটেন, জমির আইল দিয়ে ধান গুছিয়ে দেন আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই কৃষকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এসময় কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট এবং অনুরোধ জানানো হয় আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য।
গণসংযোগকালে বক্তারা বলেন—পাহাড়ের মানুষ জননেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে আবার সংসদে পাঠাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাহাড়ী-বাঙালি মিলেই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে।
তাদের দাবি— গত দুই দশকের রাজনীতিতে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার উন্নয়ন কার্যক্রম, আন্তরিকতা ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাকে এখনো পাহাড়ের মানুষের কাছে নির্ভরতার প্রতীক করে রেখেছে।
গণসংযোগে অংশ নেওয়া স্থানীয় কয়েকজন ভোটার জানান, উন্নয়ন, নিরাপত্তা, কৃষিকাজের সুবিধা এবং শান্তিপূর্ণ পাহাড় গঠনে তারা একটি কার্যকর নেতৃত্ব চান। অনেকেই বলেন—যে নেতা আমাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকে, তাকেই আমরা ভোট দেবো।
গুইমারা উপজেলার বিস্তৃত অঞ্চলে চলছে নেতাকর্মীদের নিরলস প্রচারণা। কেউ হেঁটে, কেউ মোটরবাইকে, আবার কেউ দলে দলে পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে।
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা মেঠোপথ, শীতের মৃদু হাওয়া আর বিকেলের শেষ আলোয় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে ধানের শীষের সমর্থনে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি।
গণসংযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও ধানের শীষের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার অতীতের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড—সড়ক সংস্কার ও নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন,পার্বত্য এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন,ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প,কৃষকদের সহায়তা কার্যক্রম,এ সব তথ্য ও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা লিফলেট, প্রচারপত্র ও সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হয়।
নেতারা মনে করেন—নীতি-আদর্শ, জনগণের সঙ্গে আন্তরিকতা এবং মাঠপর্যায়ের প্রচারণাই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
Please follow and like us:










