, , ,

শিরোনামঃ-




খুলনার সরকারী দপ্তরের টয়লেটগুলোর একি হাল?

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৭ ২০১৮, ০০:২১ | 976 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

খুলনা প্রতিনিধি- খুলনার অধিকাংশ সরকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের টয়লেটগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অনেকে তো এর দিকে তাকাতেই ঘৃণায় বমি করতে শুরু করেন। একবার ঢুকলে বোধহয় দ্বিতীয়বার ঢুকতে চাইবেন না কেউ। অবস্থা এতই গুরতর যে, নাকে রুমাল চেপেও টয়লেটে বসা যায় না। পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যহানী ঘটছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। তারপরও ব্যবহার উপযোগী করার কোন খবর নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর।

সরেজমিনে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, সরকারী প্রতিষ্ঠানের টয়লেটের অবস্থা খুবই নাজুক। কোনটির দরজা থাকলেও ছিটকিনি নেই। আবার দরজা ঠিক থাকলেও ভিতরে পানির ব্যাবস্থা নেই। আবার অনেক জায়গাই দরজা ও ট্যাব ঠিক থাকলেও বদনার খবর নাই। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও টয়লেট গুলোর এমন অবস্থা যাতে করে সেবা নিতে আসা লোকজন প্রাকৃতিক কাজ সারতে ভিতরে যেতে পারছেন না। মলমূত্র এমন ভাবে স্তপ হয়ে আছে ভেতরে যাওয়া তো দূরের কথা, আশপাশ দিয়ে যাওয়াই দুষ্কার।

সরকারি বি. এল. কলেজ, খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ, খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, খুলনা সদর হাসপাতালের টয়লেট গুলো নাজুক অবস্থা পাওয়া গেছে।

খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রায় সব ওয়ার্ডের টয়লেট অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যাবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও এগুলো ব্যাবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের টয়লেটের দরজা ভাঙ্গা, পানির ট্যাব নষ্ট, আলোর ব্যাবস্থা আছে কিন্তু বাল্ব নাই অথবা তার ছিড়ে গেছে, না হলে চুঁইচ নষ্ট। হাসপাতালের অনেক বাথরুমের দরজা ভাঙা ও সিটকিনি না থাকায় রোগীদের বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী রোগীরা বেশি ঝামেলায় পড়ছেন।

খুলনা সদর হাসপাতালের টয়লেটের দরজা, পানির ট্যাব নষ্ট, আলোর অভাব চোখে পড়েছে। ভিন্ন চিত্র, টয়লেটের দরজা ভাঙা, দরজা থাকলেও সিটকিনি নেই। আবার টয়লেটের সিগারেট খেয়ে তার প্যাকেট টয়লেটের প্যানের ভেতরেই ফেলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা বলতে যাওয়া হয় সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে। তিনি অফিসে না থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের টয়লেটে খুব বেশী প্রয়োজন না পড়লে কোন শিক্ষার্থী ঢুকে না। কারণ টয়লেট গুলো খুবই নোংড়া, আবার কোনটাতে ট্যাব আছে কিন্তু পানি সরবরাহ নেই, দরজা থাকলেও সেটা ভাঙ্গা, সিটকিনি নেই, ছাদ ধসে পড়ে, নানান সমস্যা। কথা হয় এক ছাত্রের সাথে সে জানায়, আমরা পারতোপক্ষে কলেজের টয়লেট ব্যাবহার করি না। প্রায় সব টয়লেটর একই অবস্থা।

সরকারি বি. এল. কলেজে ঝুঁকি নিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছেন, শহীদ তিতুমীর হল, হাজী মহসিন হল, ড. জোহা হল, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, সুবোধ চন্দ্র হল ও মেয়েদের মন্নুজান হল, খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থীরা। হলগুলোতে থাকে প্রায় ছয়’শত শিক্ষার্থী। তাদের শঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
দীর্ঘদিন সংস্কারের ছোঁয়া না লাগায় এ হল গুলোর টয়লেটের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজা ভাঙ্গা, পানির ট্যাব নষ্ট, আলোর ব্যাবস্থা নেই এসব কারণে টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

খুলনা রেলস্টেশনের শোভন শ্রেণীর বিশ্রামাগারের টয়লেটে যেয়ে খুবই কষ্টদায়ক একটি দৃশ্য চোখে পড়ে। সেখানে টয়লেটটি তো আছে খুবই খারাপ অবস্থায় তারপরেও ভিতরে বদনার বদলে পানির বোতল ব্যাবহার করা হচ্ছে।
স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, বদনা দিলে চুরি হয়ে যায়। সিসি ক্যামেরা থাকার পরেও চুরি হয় কি ভাবে এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অন্য কথা বলতে থাকেন তিনি।

অনুসন্ধান কালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র, উল্লেখিত দপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত টয়লেট ঝকঝকে। ঐ টয়লেটে নিম্ন পদস্থ কর্মচারী ও সেবা গ্রহণকারীদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। তারা সেখানে যেতে পারেন না। একই দপ্তরে দু’ধরনের টয়লেট ব্যাবস্থা থাকায় অনেকের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন অনেক কর্মচারীও।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET