নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ
ছোট্ট শিশু পারভেজ। বয়স ১২ বছর। জন্ম থেকে মেরুদণ্ডে সমস্যা জনিত রোগে আক্রান্ত। প্রতিদিন সকালে ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌর শহরের কলেজ রোড় এলাকায় হতে একটি বক্স নিয়ে দোকানে দোকানে গিয়ে “নারিকেল পিঠা খাবেন” এ কথাটি বলে। একটি পিঠা ১০ টাকা দরে বিক্রি করে পারভেজ। প্রতিদিনের মতো পারভেজ নারিকেল পিঠা খাবেন? এ প্রশ্ন করায় প্রতিবেদক জিজ্ঞেস করল, তোমার নাম কি? বলল, পারভেজ। তোমাদের বাড়ী কোথায়? আমরা ছাগলনাইয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে মুন্সি বাড়ীতে ভাড়া থাকি। আসল বাড়ী চট্টগ্রামের বাঁশখালী। তোমার আব্বু কি করেন? এ প্রশ্ন শুনে পারভেজ’র দু’চোখে অশ্রু। বলল, আমার আব্বু আমাদের সাথে থাকেনা। কেন? আমার আম্মুও(রুহুল জান্নাত) আমার মতো অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারেনা তাই আব্বু আরেকটি বিয়ে করেছে। আমরা এখানে মামা মামীর সাথের থাকি। গত ৭/৮ বছর যাবত আব্বু খোঁজ খবর নেয়না। তোমরা ভাইবোন কতজন? আমি আম্মুর একমাত্র সন্তান। পড়ালেখা করনা? অসুস্থ মা আমার পড়ালেখার খরচ কোথা থেকে জোগাড় করবে! নিজের নামটা শুধু লিখতে পারি।
পারভেজকে আর কিছু জিজ্ঞেস করতে হয়নি। সে নিজ থেকে বলল, আমার আম্মু ও আমার একই রোগ। ডাক্তার বলেছে টাকার ব্যবস্থা করতে পারলে সুস্থ হবো। কিন্তু টাকা পাবো কোথায়!
অসুস্থ মা কোনো কাজ করতে পারেনা। মামী প্রতিদিন আমাকে নারিকেল পিঠা তৈরী করে দেয় আর আমি বাজারে দোকানে দোকানে গিয়ে বিক্রি করে যা পাই তাতে সংসার কোনো মতে আমরা চালিয়ে নিচ্ছি। তবে মামা ছোট্ট একটি চাকরী করে। মামা আমাদের যথেষ্ট সহযোগীতা করছে।
মেরুদণ্ডে সমস্যা জনিত রোগী পারভেজ ও তার মা। অনেকটা শারীরিক প্রতিবন্ধী তারা। পায়নি সরকারি কিংবা বেসরকারি ভাবে কোনো ভাতা। কে দিবে তাদের ভাতা? তারা ছাগলনাইয়ায় থাকে কিন্তু এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা নয়। পিতৃহীন পারভেজকে দমিয়ে রাখতে পারেনি কোনো প্রতিকূলতা। নারিকেল পিঠার ফেরিওয়ালা হয়ে জীবীকার সন্ধ্যান খোঁজে। ছোট্ট শিশু পারভেজ বলছে ভিক্ষা করে খাবোনা। কর্ম করেই খাবো। তবে পারভেজ জানতে চায় পৃথিবীতে কেউই কি নেই যে তাকে সুস্থ হতে সহযোগিতা করবে? পারভেজ চায় সুস্থ হয়ে কাজ করে উপার্জন করবে আর দুখিনী মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে।









