বাগেরহাটের ফকিরহাটে চাঁদাবাজ ও ডেভিলদের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জেলা জজ আদালতের কর্মচারী রবিউল ইসলাম (৩৪)। যেকোনো সময়ে তার প্রাণনাশ ও তার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন রবিউল ইসলাম। রবিউল ইসলাম ফকিরহাটের ছোট বাহিরদিয়া এলাকার ওয়াজেদ আলী শেখের ছেলে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফকিরহাটের ছোট বাহিরদিয়া এলাকার খবির উদ্দিনের ছেলে শেখ জায়েদ হোসাইন ঐ এলাকার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ক্যাডার। দীর্ঘদিন যাবত বাহিরদিয়া মানসা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। বিগত হাসিনা সরকারের আমলে তার অত্যাচার ও নির্যাতনে এলাকাছাড়া ছিল বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা। তার সামনে ভয়ে কথা বলার সাহস পেতো না কেউ। ৫ আগস্টের পর এলাকার আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও জায়েদ হোসাইন পালিয়ে যায়নি। স্থানীয় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। দ্রুত শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসবে তখন দেখে নেওয়া হবে বলে জামাত-বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকি দিতেছে।
তারা আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা জায়েদ হোসাইনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল রাতে রবিউল ইসলাম মারধরের শিকার হয়ে ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে বাগেরহাট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য তাকে আবারো ২৭ জুলাই রাতে মারপিট করেছে এই সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। রয়েছে মারপিট ও মাদকের মামলা। সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে এখনো পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অপরদিকে জায়েদ হোসাইন তার বাহিনী নিয়ে হুমকি দিতেছে জেলা জজ আদালতের কর্মচারী রবিউল ইসলামকে।
ঘটনার বিষয়ের রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা জায়েদ হোসাইন, শেখ হুমায়ুন কবির, হাফিজুর সরদার, শেখ কবির হোসেন, মুন্সী আলী আকবর ও আলী আহমেদ সহ কয়েকজন আওয়ামী সন্ত্রাসী আমার নিকট চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমাকে মারপিট করে। আদালতে মামলা দায়ের করলে আবারো তারা আমাকে পিটিয়ে আহত করেছে। আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে। ফকিরহাট থানায় অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ। বর্তমানে আমি প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, জায়েদ হোসাইন বিপুল সম্পদের মালিক। টাকা দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে এখনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে আটক করে না। বিষয়টি দুঃখজনক।
ঘটনার বিষয়ে ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










