৮ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

বগুড়ার শেরপুরে কে হচ্ছেন পৌর পিতা?

এম এ রাশেদ, বগুড়া জেলা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ১৪ ২০২১, ১৪:১৪ | 676 বার পঠিত

 বগুড়া জেলার ঐতিহ্যবাহী শেরপুর পৌরসভার নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই প্রচারণা জমে উঠছে। পৌষের শীত ও করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে প্রচার-প্রচারণায় এলাকা সরগরম করে রেখেছেন অর্ধশত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
১৮৭৬ সালে স্থাপিত দেশের অন্যতম পুরাতন পৌরসভা বগুড়ার শেরপুর। ১০.৩৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শেরপুর পৌরসভার মেয়র ও ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি শনিবার। ১১ টি কেন্দ্রে গোপন ব্যালটে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন অফিস।
নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী চার প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার (নৌকা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুন্ডু (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিস্কৃত) জানে আলম খোকা (জগ) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী এমরান কামাল ইমরান (হাতপাখা)। এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৩টি পদে ১০ জন এবং ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন সর্বমোট ৫০ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৩০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে পৌরসভা এলাকা ছেয়ে গেছে নির্বাচনী পোষ্টার-ফেষ্টুনে। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের পক্ষে সুরেলা কন্ঠের মাইকিং। প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রæতি। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পাড়া-মহল্লা। চায়ের কাপে ঝড় তুলেছে পৌর নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন প্রার্থী হলেও মূল লড়াই হতে পারে বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার, সাবেক মেয়র বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য স্বাধীন কুমার কুন্ডু ও সাবেক মেয়র বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা জানে আলম খোকার মধ্যে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিশেষ সুবিধাও পেতে পারেন বলে সাধারন ভোটাররা বলাবলি করছেন।
বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার জানান, বিগত ৫ বছরে পৌরসভায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। আরও সাড়ে ৮ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জনগণ আবারো নৌকা প্রতীকে ভোট দিবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু জানান, বিগত সময়ে পৌরবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমি সাধ্যমত উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলাম। তাই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের বিজয় হবেই।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জানে আলম খোকা জানান, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে পৌরসভার উন্নয়ন বঞ্চিত জনগণ আমাকে জগ মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে ইনশাআল্লাহ। আমি নির্বাচিত হলে শেরপুর পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে তুলবো।
শেরপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রির্টানিং অফিসার মোছা. আছিয়া খাতুন জানান, শেরপুর পৌরসভায় ১১ টি ভোট কেন্দ্র গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। এজন্য ১১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৮২ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৬৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৭ শ ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৪শ১৫ জন এবং নারী ভোটার ১২ হাজার ৩শ৩৯ জন।
তিনি আরো জানান, নির্বাচনে আচরণ বিধি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৩জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। শান্তিপুর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার ৮ হাজার ৯শ ১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুন্ডু পেয়েছিলেন ৬ হাজার ১শ ৬৫ ভোট। ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুন্ডু দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৪শ ০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার কাপপিরিচ প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ৫হাজার ৮শ৩৭ ভোট। এছাড়া ২০০৪ সালে পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপি নেতা জানে আলম খোকা, ১৯৯৯ সালের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর রহমান মজনু, ১৯৯৩ সালের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর রহমান মজনু, ১৯৮৯ সালের পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি নেতা জানে আলম খোকা, ১৯৮৪ সালের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী  লীগ নেতা মজিবর রহমান মজনু, ১৯৮০ সালের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী  লীগ নেতা মজিবর রহমান মজনু, ১৯৭৭ সালের পৌরসভা নির্বাচনে গাজিউর রহমান এবং ১৯৭৪ সালে ন্যাপ নেতা সিদ্দিক হোসেন পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4408317আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 11এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET