১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

বাগমারায় ইরি-বোরোর চাষাবাদে ব্যাপক শ্রমিক সংকট

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ০৫ ২০২১, ১২:০৩ | 665 বার পঠিত

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ইরি-বোরোর ভরা মৌসুমে চাষাবাদের জন্য পাওয়া যাচ্ছে না কৃষি শ্রমিক। ফলে বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। তারা অধিকাংশই চাষের জমি এখন বর্গা(আদি) দিচ্ছেন না হয় পুকুর খননের জন্য লীজ দিচ্ছেন। এতে কৃষকরা লাভবান হলেও কমছে কৃষি উৎপাদন। এই উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক কৃষি শ্রমিক এখন নানান পেশায় জড়িত হয়ে পড়েছেন । তাদের কেউ কেউ কৃষি কাজে শ্রম বিক্রির বদলে ভ্যান চালক, আলুর ষ্টোরের শ্রমিক, রাজমিস্ত্রী, কেউবা ভাটা শ্রমিক, আবার অনেকে মাছ উৎপাদন ও মাছ পরিবহনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এসব কাজে অল্প শ্রম দিয়ে বেশি মজুরী পাওয়ার জন্য কৃষি শ্রমিকরা তাদের পৈত্রিক পেশা ছেড়ে এখন এসব পেশায় জড়িত হয়ে পড়েছে। উপজেলার দেওলা গ্রামের গ্রামের কৃষি শ্রমিক আজাদ, আনিছার, মজনু সহ ১০/১২ জন শ্রমিক জানান, তারা আগে চাষাবাদের কাজে শ্রম বিক্রি করতেন। তাদের মতে, চাষাবাদে মজুরী কম এবং সময় লাগে বেশি। এছাড়া চাষাবাদে হাজিরা হিসাবেও মজুরী কম পাওয়া যায়। তবে অন্যান্য চুক্তি ভিত্তিক কাজে কম পরিশ্রম করে বেশি মজুরী পাওয়া যায়। তাদের মতে, এসব নানান কারণে দিন দিন চাষাবাদের কাজে কৃষি শ্রমিকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এদিকে কৃষকরা বলেছেন, বর্তমান বাজারে আলুর দাম নেই বললেই চলে। গত শীত মৌসুমে প্রচন্ড শৈতপ্রবাহের কারণে পানের পাতা ঝরা রোগে তাদের পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এভাবে একের পর এক আবাদ করে কৃষকরা ক্ষতির শিকার হয়ে এখন মাজা তুলে দাঁড়াতে পারেছেন না। তার উপর ইরি-বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় তারা শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাড়তি মূল্য দিয়েও তারা শ্রমিক পাচ্ছেন না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে জমি আদি(বর্গা দিয়ে দিচ্ছেন। কৃষকদের মতে, দিন দিন কৃষি শ্রমিকদের মজুরী বাড়তে থাকায় তাদের লাভের অংক কমে যায়। খরচ বাদ দিয়ে তখন লোকসান গুনতে হয়। এখন অর্ধেক দিন কাজ করে এক বেলা খাবার দিয়ে একজন শ্রমিককে দিতে হয় সাড়ে তিনশ টাকা। তার পরও কৃষি শ্রমিক পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে। হামিরকুৎসার কৃষক মঞ্জুর রহমান জানান, পৈত্রিক সূত্রে তাদের প্রায় বিশ একর জমি। বাপদাদার আমল থেকেই তারা কৃষক। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিকের অভাবে তারা তাদের জমি গুলো বর্গা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। মঞ্জুর ভাই রফিক জানান, বর্তমানে শ্রমিক পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে। পাওয়া গেলেও তারা ব্যাপক মজুরী দাবী করে বসে। মাড়িয়ার কৃষি শ্রমিক ময়েজ উদ্দিন জানান, আগে কৃষি কাজে সারাদিন শ্রম বিক্রি করে তিনশ সাড়ে তিনশ টাকা পেতাম। এখন ভ্যান চালিয়ে দিনে পাঁচশ টাকার বেশি আয় হয়। তার মতে, ভ্যান চালনার পাশাপাশি নিজের সংসারও দেখাশুনা করা যায়। তার পরিচিত অনেক ভ্যান চালকরা পূর্বের কৃষি কাজে শ্রম বিক্রির বদলে এখন ভ্যান গাড়ী নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, বর্তমানে ইরি-বোরো ভরা মৌসুমে এই উপজেলায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। তার মতে কৃষি শ্রমিক না পাওয়ায় চাষাবাদও কিছুটা কমেছে। কারণ শ্রমিকের মজুরী বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। এই অবস্থায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে তাদের কৃষি জমিগুলো পুকুর খনন করার জন্য লীজ দিয়ে দিচ্ছেন। এতে কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। বর্তমান বাজারে এক বিঘা(৩৩শতক) জমি পুকুর খননের জন্য লীজ দিয়ে কৃষকরা পাচ্ছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তবে বাগমারায় কৃষি শ্রমিক সংকটের চলমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে , কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন কৃষিতে পুরোমাত্রায় যদি প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয় তবে এই সংকট অনেকাংশে কমে যাবে। এজন্য সরকার বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য কৃষকদের ভর্তুকী দেওয়া শুরু করেছেন। এতে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4492618আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET