বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন নিয়ে রয়েছে আইনি জটিলতা। তাছাড়া বছর ধরে জেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে দলীয় সাংগঠনিক অবস্থায় রয়েছে বেশ দুর্বলতা। প্রত্যেকটি সংসদীয় আসনে রয়েছে একই দলের মধ্যে কমপক্ষে দুইটি শক্তিশালী গ্রুপ। যার রেস ধরে গত ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্মেলনে ঘরবাড়ি পোড়ানো ও হত্যাকাণ্ডসহ ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে জেলা নেতাদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত থাকলেও প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত রয়েছে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ছাড়াও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সকলেই।
বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি’র কোন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। এমনকি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকাও প্রকাশ করেনি দলটি। সংসদীয় আসন নিয়ে জটিলতা থাকায় বাগেরহাটে কয়টি আসন হচ্ছে এবং কে কোন আসনে নমিনেশন পাচ্ছেন এমন জল্পনা কল্পনার মধ্যে খানিকটা অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোট দানের লক্ষ্যে গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে স্থানীয় ভোটারেরা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি আসন কমিয়ে তিনটি আসনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল যথাযথ (অ্যাবসোলিউট) ঘোষণা করে রায় প্রদান করেন।মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায় মেনে নিয়ে আগের মতো চারটি সংসদীয় আসন বহাল রেখে গেজেট প্রকাশের আহ্বান জানাতে ইসি সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন বাগেরহাট জেলার সর্বদলীয় সম্মিলিত সংগ্রাম কমিটি। হাইকোর্টের ১০ই নভেম্বরের আদেশ অনুযায়ী বর্তমানে ৪টি সংসদীয় আসন বহাল রয়েছে। অপরদিকে নির্বাচন কমিশন চেম্বার জজ আদালতে আপিল করায সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চে আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে এখনো আপিলের শুনানি হয়নি। শুনানি শেষে এই রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাগেরহাটে চারটি নাকি তিনটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হবে। এ অপেক্ষায় রয়েছেন বাগেরহাট জেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ।
বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন- বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম, তারই আপন ভাই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, সুপ্রিম কোর্টে চারটি সংসদীয় আসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিয়োজিত আইনজীবী বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা, জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শেখ মুজিবুর রহমান, এডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দীপু, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, ডক্টর কাজী মনির, মনিরুল হক ফরাজী, মনিরুল ইসলাম খান, বিশিষ্ট আইনজীবী মো: অলিউর রহমান এবং জেলা বিএনপি নেতা এডভোকেট ফারহানা জাহান নিপা।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল থেকে এখনো পর্যন্ত কোন আসনে ধানের শীষের কোন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি কিংবা কাউকে সবুজ সংকেতও দেয়নি বিএনপি। বাগেরহাটের ৪ অথবা ৩ সংসদীয় আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।










