নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ
ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম ছাগলনাইয়া মাস্টার পাড়া এলাকার সন্তান জহিরুল ইসলাম জহির। বাবা মাস্টার ওবায়দুল হক ছিলেন ছাগলনাইয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ছোট বেলায় বাবার মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের কথা শুনে জহির আওয়ামী রাজনীতির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। ১৯৯৬ সালে জহির ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন ছাত্র। তৎকালীন সময় ফেনী-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী হন ওয়াজি উল্লাহ ভুইয়া। সেই ওয়াজি উল্লাহ ভুইয়ার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে লিফলেট ও পোস্টার লাগানোর কাজ দিয়ে শুরু করেন আওয়ামী রাজনীতি। ১৯৯৭ সালে ছাগলনাইয়া পাইলট স্কুলের ছাত্র থাকা কালিন তিনি ছাত্রলীগ’র কর্মি হিসেবে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করেন এবং পশ্চিম ছাগলনাইয়া শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৯৮ সালে তরুন এ ছাত্রলীগ নেতা পশ্চিম ছাগলনাইয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগ’র সভাপতি নির্বাচিত হয়।
স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে ১৯৯৯ সালে যখন তিনি ছাগলনাইয়া সরকারী কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন তখন থেকে ছাত্রলীগ’র কর্মী বাড়ানোর কাজে লেগে পড়েন। ফেনী-১ আসনভূক্ত এলাকা ছাগলনাইয়া। এ এলাকার সিংহভাগ মানুষই ছিলো বিএনপি সমর্থিত। আওয়ামীলীগ’র নাম মুখে নিবে এমন মানুষ খুব কমই ছিলো। পড়ালেখার পাশাপাশি এলাকার ছাত্র সমাজ ও বড়দের সাথে সময় দিতেন জহির। আওয়ামীলীগ সম্পর্কে জানান দিতেন সকলকে। ২০০০ সালের পর থেকে কলেজের প্রতিটি ব্যাচ’র শিক্ষার্থীদের মাঝে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন তিনি। দিন দিন ছাত্র সমাজ ও বড়দের অতি প্রিয় হয়ে উঠল জহির। ছাত্রলীগের কর্মী বৃদ্ধিতে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ছাগলনাইয়ায় সংগঠিত একটি ছাত্রলীগ বাহিনী গঠন করেন।
২০০২ সালে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ’র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেন তিনি। ২০০৪ সালে জহির ছাগলনাইয়া থানা ছাত্রলীগ’র তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়। ২০০৫ সালে তিনি ছাগলনাইয়া সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ’র সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। দলের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করায় তিনি দলের নেতাদের দৃষ্টিতে পড়েন। বাড়তে লাগলো তার নামের সুপ্রচার।
২০১১ সালে জহিরুল ইসলাম ফেনী জেলা ছাত্রলীগ’র সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ লাভ করেন। ২০১৮ সালে জহিরুল ইসলাম ফেনী জেলা যুবলীগ’র সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।
সম্প্রতি বিশেষ এক সাক্ষাতকারে ফেনী জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলোন, আওয়ামী রাজনীতে আসার পেছনে আমার বাবার অনুপ্রেরণা ছিলো প্রশংসনীয়। ২০০২ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালীন আমার বাবা ও আমাকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে গ্রেফতার করায়। আমার বাবাকে চাকুরী থেকে সাসপেন্স করে। তবুও বাবা আমাকে সবসময় আওয়ামী রাজনীতি করার জন্য সমর্থন এবং সহযোগীতা করতেন। তিনি বলেন, কলেজ ছাত্রলীগ’র সভাপতি হওয়ার পেছনে আ’লীগ নেতা মরহুম ফয়েজ আহম্মদ বিএ, কাজী ওমর ফারুক, এনামুল হক মজুমদার, ইকবাল হোসেন মজুমদার লিটন ও জাফর উল্লাহ মজুমদারের সহায়তা ছিলো শতভাগ। জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে পৌছানোর পেছনে ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ’র প্রেসিডেন্ট ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট’র অবদান রয়েছে বলে জানায় তিনি। ছাত্রলীগ’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় জহির বাড়ী থেকে পরীক্ষাও দিতে পারতেননা বলেন জানান। তিনি বলেন, নানা মুখী হয়রানির শিকার হতে হয়েছিলো শুধু ছাত্রলীগ করার কারনে।
রাজনৈতিক জীবনে কি পেয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, সততার সাথে কাজ করেছি। কখনো চাঁদাবাজী কিংবা টেন্ডরিং করিনি। মানুষকে ভালোবেসে মানুষের আপন হতে চেয়েছি এবং মানুষের ভালোবাসা আমি পেয়েছি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো যুবলীগকে সুসংগঠিত করা। মেধাবীদের সংঘবদ্ধ করে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কার্যগুলো সবার দ্বারে দ্বারে পৌছাবো।









