১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-




ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা সুদিন দিন ফিরছে সোনালী আঁশে ॥

মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী,দিনাজপুর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ১৫ ২০২৫, ১৭:০২ | 741 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

আবারো ফিরছে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের সুদিন । গেল কয়েক বছর পাটের দাম না পেয়ে হতাশ ছিলেন চাষিরা। তবে এবছর সোনালী আঁশের চাহিদা ও ন্যায্য মুল্যের কারনে সোনালী আঁশে সোনালী দিনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। চাহিদা এমন থাকলে আবারও পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এ অঞ্চলের চাষিদের।
কৃষকের দেয়া তথ্যসূত্রে জানা যায়,গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকায় পাটের দাম না পেয়ে হতাশ ছিলেন চাষিরা। পাটের চাহিদা বাড়ায় এবার ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। গত কয়েক বছর এই এলাকায় পাটের দাম মণ প্রতি ১৮শ থেকে ২৫শ টাকা পর্যন্ত থাকলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে মণ প্রতি ৩৮শ টাকায়। তবে ফুলবাড়ী উপজেলায় পাটের কোন বাজার না থাকায় পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলায় পাট বিক্রি করতে অনেকটা সময় ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই উপজেলার কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১১ দশমিক ৮৩ বেল হিসেবে মোট ৭১০ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
একাধিক পাট চাষি কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় পাটের ন্যায্য মূল্য পেয়ে তারা খুশি। অন্যান্য বছরে পাট চাষ করে দাম না পেয়ে লোকসানে পড়তে হত। অনেকে লোকসান জেনেও শুধু জমির উর্বরতা ধরে রাখতে পাট চাষ করতেন। এভাবে কয়েকবছর পর আগ্রহ আরও কমে গেলে অনেকে জমি ফেলে রাখতে বাধ্য হত। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন,এবার প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩৫শ থেকে ৪ হাজার টাকায়। পাশাপাশি পাট কাঠিরও দাম ভালো। প্রতিমণ পাটকাঠি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকের বাড়তি লাভ হচ্ছে। এভাবে ভালো দাম থাকলে সামনের বছর পাটের আবাদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে এই এলাকায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার খয়েরবাড়ি ইউনিয়নের মোক্তারপুর গ্রামে পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাহাবুর রহমান, আজিজুল হক ও নজরুল ইসলাম নামের তিন চাষী। এসময় কথা বললে তারা জানান, অন্যান্য বছর পাটের তেমন দাম না পেলেও এবার ভালো দাম পেয়ে খুশি তারা । তবে ফুলবাড়ী উপজেলায় পাটের কোন আড়ৎ না থাকায় পাশের উপজেলায় গিয়ে পাট বিক্রি করতে হয় বলে কিছুটা ভোগান্তি হয়। ফুলবাড়ীতে তেমন কারখানা গড়ে না ওঠায় পাট শিল্পের বিকাশ ঘটছে না। তাই এ শিল্পের বিকাশ ঘটাতে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহানুর রহমান বলেন, পাট খুবই সম্ভাবনাময় একটি ফসল। অতীতে এই উপজেলায় ব্যাপক হারে পাট চাষ হলেও দিন দিন কমতে থাকে। এ ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সরকারীভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ২০জন কৃষকের মাঝে ২০বিঘা জমির বিপরীতে পাট বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। আগামীতে এই উপজেলায় পাটের চাষ ব্যাপক হারে বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET