মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,
আপনি পরীক্ষার আগে সকল পত্রিকা এবং মিডিয়ায় আগাম নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে- সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এক প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে ঠিক উল্টোটাই আমাদের সাথে হচ্ছে। আমাদের প্রাণের জেলা ‘কুমিল্লা’ কি বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত? নাকি বাংলাদেশ এর আওতা বহির্ভূত করার ইচ্ছে আপনার মনে জন্মেছে? যদি তাই হয় তাহলে সরাসরি বলে দিন। মূলত একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিলো- মেধা যাচাইয়ে সমবিচার প্রদান করা। আর সেই অনুযায়ী প্রচার করা হয়েছে।
স্যার, আমরা তো বলিনি আমাদের একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিন। সেটা আপনি বলেছেন এবং আমাদের মা-বাবারা সেই আশাতেই বসে আছে যে- এবারসারাদেশের সাথে আমার সন্তানের মেধাটা যাচাই করা হবে। কিন্তু পরীক্ষার হল থেকে গত ০২/০৪/২০১৮ইং বের হয়ে যখন প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর বেহাল অবস্থা তখনই মা-বাবা প্রশ্ন করে বসে- ‘ওমা! তোর খালাতো বোনের পরীক্ষা তো ভালো হয়েছে! তোরটা হলো না কেন? এর মানে ভালো করে পরিসনি এবং বাকি পরীক্ষাগুলোতেও একই অবস্থা হবে। কিন্তু মা-বাবাকেএটা কে বুঝাবে যে- আমরা কুমিল্লার নিরীহরা ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতেই-বা কে বুঝাবে- আমরা কুমিল্লা বোর্ড থেকে পরীক্ষা দিয়েছি। তখন তো আমাদের প্রতিযোগিতাটা সারাদেশের শিক্ষার্থীদের সাথেই হবে। আর প্রতিযোগিতা-টা তখনই সঠিক হবেযখন গন্তব্যটা সবার জন্য সমান দূরত্বে থাকবে। কিন্তু আমাদের সাথে তা হচ্ছে না। আমাদের আলাদাভাবেই যাচাই করা হচ্ছে। কিন্তু গণনা করা হবেসারাদেশের সাথে। মা-বাবা তো এইসব কথা শুনতে নারাজ। তাদের ভালো রেজাল্ট চাই। ওই যে তার ছেলে এত পয়েন্ট পেয়েছে তুমি পাওনি কেনো? কিন্তু এটা কে বুঝাবে যে- দেশ আমাদের আলাদা করেই যাচাই করছে। হয়তো দেশ আমাদের আপন ভাবতে পারছে না।
স্যার, আপনি ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেন ভালো কথা কিন্তু সেটা পুরো দেশকে জানিয়ে দিন। আমাদের মা-বাবাও জানুক এবং উপলব্ধি করুক কুমিল্লা বোর্ড থেকে পরীক্ষাটা দেয়া উচিত হচ্ছে না।
স্যার, সকলে যখন ১০০ মিটার দৌঁড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে তখন আপনি যদি কুমিল্লাকে ১২০ মিটার দৌঁড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করান, আর যারা ১০০ মিটার দৌঁড়ে অংশগ্রহণ করলো তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন তাহলে সেটা কি বেমানান না?
এখন বলবেন রেজাল্ট কিছুই নয়, তুমি কতটা শিখতে পেরেছো সেটা দেখার বিষয়। কিন্তু স্যার, সেই আপনিই আবার রেজাল্ট দিয়ে মেধা যাচাই করে জীবন নির্ধারণ করেন। সকলের সাথে তুলনা করেন। তুলনা-ই যেহেতু করবেন তাহলে প্রশ্নপত্রটাও সকলের সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা নিয়ে তুলনা করেন। কুমিল্লা পিছিয়ে নেই স্যার কুমিল্লাকে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে।
ইতি,
কুমিল্লার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষে,
খন্দকার ইসরাত জাহান
এইচএসসি পরীক্ষার্থী
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ।









