শীত মৌসুম এলেই সুনামগঞ্জে তাহিরপুরের হাট-বাজারগুলোতে সিদ্ধ ডিম বিক্রির হার বেড়ে যায়। কেউ ফুটপাতে ছোট পরিসরে বসে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করছেন, কেউ বা বাজারে ফেরি করে বিক্রি করছেন।এমনই এক বিক্রেতা উপজেলার পৈলনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আবু সায়েম। স্কুল ছুটি শেষে স্থানীয় বাজারের পাইকারদের নিকট থেকে ডিম কিনে বাড়িতে এনে সিদ্ধ করে সন্ধ্যার পর বিক্রির উদ্দেশে বের হয় সে।
নিয়ম করে পুরো শীত মৌসুমজুড়ে সে ডিম বিক্রিয় টাকা দিয়ে পরিবারে আর্থিক যোগান দিয়ে যাচ্ছে গত দুই বছর ধরে।সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে কত টাকা লাভ করতে পারো প্রতিদিন- জানতে চাইলে সায়েম বলে, ‘১৫০ থেকে ২০০ টাকার মতো লাভ করা যায়।’প্রতিদিন নিয়ম করে লাভের অংশের টাকা তার মায়ের হাতে তুলে দেয় সে। লভ্যাংশ থেকে মা তাকে কোনোদিন ৩০ টাকা, কোনোদিন ৫০ টাকা দেন।
এই টাকা দিয়ে কি করে জানতে চাইলে সায়েম বলে, ‘টেকা জমাইয়া একটা মোবাইল কিনছি, আর এ মোবাইল দিয়া আমার ঝি’র (ফুপু) লগে, ভাইয়ের লগে কথা কই।’ এ শিশু বয়সে মোবাইল ব্যবহার করা কি ঠিক হচ্ছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে এক চিলতে হাসির সাথে মাথা নাড়িয়ে জানাই, জানিনা।পড়ালেখা শেষ করে ভবিষ্যতে কি করবে জানতে চাইলে নির্বাক থাকে সায়েম।
অজানা ভবিষ্যত, ভ্যাবাচেকা চোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারে না সে।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, তাহিরপুর উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে স্কুল পড়ুয়া সায়েমের মতো এমন আরো অনেক শিশু রয়েছে যারা চলতি শীত মৌসুম এলেই ডিম সিদ্ধ করে বাজারে ফেরি করে বিক্রি করে থাকে।
সন্ধ্যার পর যে সময়টা সায়েমদের পড়ার টেবিলে ব্যস্ততায় কাটানোর কথা, সে সময়ে সায়েমরা পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য, অনেকে আবার নিজের পড়ার খরচ যোগান দেয়ার জন্য টাকা উপার্জনের তাগিদে এই শিশু বয়সেই জীবন সংগ্রামে লিপ্ত হচ্ছে।রাস্তায় শত শত মানুষের ভিড় ঠেলে যে গতিতে ডিম বিক্রির নেশায় ছুটে চলেছে এ সকল শিশু, তাতে করে রাস্তায় চলাচল করা পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ নানা যানবাহনের মাধ্যমে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে এসব কোমলমতি শিশুরা। কিন্তু কোমলমতি শিশুরা এসব দুর্ঘটনার বিষয়টিকে ন্যুনতম তোয়াক্কা না করেই ডিম বিক্রি করে যাচ্ছে আপন মনে।









