৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-

সবুজের বুকে সূর্যের হাসী

মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী,দিনাজপুর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৯ ২০২১, ১৯:১৯ | 683 বার পঠিত

বিকেলে গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাঠছিলাম। রাস্তার চারিদিকে ইরি-বোরো সবুজ ধান ক্ষেত। চলতে
চলতে হঠাৎ চোখ পড়লো, দেখে মনে হলো সবুজের বুকে হলদে হাসী! সবুজ গাছের চূড়ায় বড় বড় হলদে ফুল।
গোলাকার ফুলগুলো চেয়ে আছে সূর্যের দিকে। সূর্য যেদিকে থাকে ফুলগুলোও সেদিকেই হেলে পড়ে। নাম
তার সূর্যমুখী।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি প্রধান হলেও এখানকার কৃষকের প্রধান ফসল ধান। এর পাশাপাশী
কৃষক তার জমিতে নানা রকমের ফসল ফলায়। তেমনিভাবে এবার ফুলবাড়ীর কৃষকরা প্রথমবার চাষ করছে
সূর্যমুখী ফুল।
সৌন্দর্যের জন্য নয়, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এবং ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে চাষ হচ্ছে
সূর্যমুখী ফুল। দেশে ভোজ্যতেলের সংকট নিরসনে সরকারী উদ্যোগ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে
সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিনা মূল্যে প্রণোদনায় উপজেলার কৃষকদের বিতরণ করা
হয়েছে সূর্যমুখী বীজ ও রাসায়নিক সার। কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে এরই অংশ হিসেবে এ উপজেলার বেশ কিছু
এলাকায় চাষ করেছে সূর্যমুখী ফুল। এতে করে দেশে সূর্যমুখীর তেলের বাজার বড় হচ্ছে,বাড়ছে চাহিদা।
রূপ আর তেল দুই-ই ঢেলে দিচ্ছে এই সূর্যমুখী ফুল।
ফুলবাড়ীতে এই সূর্যমুখীর খবর ইতোমধ্যেই সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায়,বাগান দেখতে
অনেকেই ঘুরতে আসছেন প্রতিদিন সূর্যমুখীর সুন্দর্য রূপ আস্বদন করতে।
আলাদীপুরের কৃষক ভবেন্দ্র নাথ বর্ম্মন বলেন, ‘তিনি সাড়ে ২২ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের
চাষ করেছে,খরচ খুব কম,তেমন কোন খাটুনি নেই। সূর্যমুখীর সাথে সাথী ফসল হিসেবে লাউ চাষও
করেছেন তিনি। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে প্রণোদনার বীজ পেয়ে এবং তাদের পরামর্শেই সূর্যমুখী ফুল
চাষ করেছেন। আশানুরুপ ফলন পেলে আগামীতে আরো বেশী জমিতে সূর্যমুখী চাষ করবেন এমনটিই
জানালেন ওই কৃষক।
এদিকে সূর্যমুখী চাষী মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, ভবেন্দ্রনাথ বর্ম্মনের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার কাছে
পরামর্শ নিয়ে সাড়ে ২৫ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। ফল ভালো এসেছে,এবার ফলন ভালো হলে
পরের বার আরও বেশী জমিতে চাষ করবেন। তিনি জানান,এবার প্রথম চাষ হবার কারণে ফুল ফোটার সাথে
সাথে ফুল প্রেমীদের সূর্যমুখী ক্ষেতে আনাগোনা বেড়েছে। অনেকে আবার ফুল ছিড়ছে তবে
সূর্যমুখীর চাষ বাড়লে এই সমস্যা হয়তো থাকবেনা বলে জানান ওই কৃষক।
সূর্যমুখী খেতে দেখা হলো পাশের উপজেলা থেকে আসা কয়েজনের সাথে। কথা হয় তাদের সঙ্গী
অনিকেত সাহার সাথে। সে বলে বিরামপুরে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে কিনা জানি না। তবে সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকে ছবি দেখে দেখতে এসেছি সূর্যমুখীর হাসি। অনেক সুন্দর। ভাল
লাগছে।
সূর্যমুখী দেখতে আসা ফুলবাড়ী পৌর শহরের সুজাপুর রাজ বংশী পাড়ার জয়া, গুপিকা বর্ম্মন,
মনিকা বর্ম্মনের দেখা হয়। কথা হয় অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ুয়া ছাত্রী জয়া’র সাথে সে বলে ছবিটা
একদম অন্য রকম। সবুজের বুকে একখন্ড হলুদ জমিন। ফুলবাড়ীতে বিনোদনের তেমন জায়গা নেই তাই বন্ধুদের
কাছে শুনে ঘুরতে এসেছি সূর্যমুখীর জমিতে। খুব ভাল লাগছে যে আমাদের উপজেলার নাম ফুলবাড়ী। আর
ফুলবাড়ীতে এমন সূর্যমুখীর অপরূপ সুন্দর একটা পরিবেশ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ
একেবারেই নতুন। তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে প্রণোদনা হিসেবে উপজেলার ১৩৫ জন কৃষককে এক
কেজি করে সূর্যমুখী বীজ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী।
প্রতিটি সূর্যমুখী গাছে এখন ফুল এসেছে,কদিন বাদেই ফলন পাবে কৃষক। জাত ভেদে প্রতি বিঘায়
(৩৩ শতাংশ) ২০০ থেকে ২৫০ কেজি সূর্যমুখী বীজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4664977আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET