সুনামগঞ্জের প্রায় সাড়ে ২১ হাজার প্রতিবন্ধীর সরকারি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রটি লোকবল সংকটে ভুগছে। কেন্দ্রটি’র নিজস্ব কোন অফিস না থাকায় অবকাঠামো সমস্যাও রয়েছে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জে ২০১৩ সালে জেলার প্রতিবন্ধীদের সেবা দিতে এখানে কার্যক্রম শুরু হয় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র’র। শুরুতে সেবা গ্রহিতাদের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু এখন প্রতিদিন এখানে সেবা নিচ্ছেন ৬০ থেকে ৭০ জন প্রতিবন্ধী।
পৌর শহরের আরপিন নগর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ীতে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জানা যায়, ৪ কক্ষ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সেবা কেন্দ্রটি প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী নয়। এছাড়াও কনসালটেন্টসহ ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ থাকলেও আছেন ৫ জন। প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা, ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট, স্পীচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট, অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের পদ শূন্য রয়েছে। থেরাপি সহকারী ২ জনের পদ থাকলেও আছেন ১ জন। টেকনিশিয়ানের ২ পদের মধ্যে আছেন ১ জন।
সেবা কেন্দ্রটিতে একটি অটিজম কর্নার, একটি থেরাপি কক্ষ, একটি কনসালটেন্ট কক্ষ ও একটি প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তার কক্ষ রয়েছে।
সেবা কেন্দ্রটি আরও বড় এবং মহিলাদের জন্য আলাদা কক্ষ থাকা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন সেবা গ্রহিতারা। সেবা গ্রহিতারা জানিয়েছেন, জেলায় এরকম একটি সেবা কেন্দ্র থাকায় প্রতিবন্ধীরা উপকৃত হচ্ছে।
শহরতলির লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জানীগাঁও গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের স্ত্রী রাবিনা বেগম জানালেন, তার তিন বছর বয়সি শিশু শাহীন আলম দুই মাস আগে হাত দিয়ে কিছু ধরতো না। দাঁড়াতে পারতো না, এই কেন্দ্রে চিকিৎসা নেবার পর এখন দাঁড়াতে পারে। সামনে কিছু পেলে ধরারও চেষ্ঠা করে।
দিরাইয়ের বোয়ালিয়ার রাজন দাসের ৫ বছর বয়সী ছেলে রাজীব দাসকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছেন তার পিসি (ফুফু) অঞ্জলি দাস। অঞ্জলি বলেন, ‘রাজিব আগে পা কেউরি দিয়ে রাখতো, গলার স্বর ছিল না। মুখ দিয়ে লালা পড়তো, এখন লালা কম পড়ে, পা কেউরি দিয়েও রাখে না, মাঝে মাঝে ধমক দেয় সে এখন, তাতে বুঝা যাচ্ছে গলার স্বরও ছুটতেছে।’
প্রতিবন্ধী সেবা ও সহায়তা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (ফিজিওথেরাপি) মো. তানজিল হক বলেন, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে আমরা অনেক কিছুই করতে পারছি না। প্রতিবন্ধীদের জন্য আমরা ইচ্ছে করলেই র্যাম করতে পারি না। প্রতিবন্ধী বান্ধব বাথরুমের ব্যবস্থা করতে পারছি না। কারণ এটি ভাড়া বাড়ী। যারা সেবা নিতে আসেন, তাদের জন্য প্রাইভেসির ব্যবস্থা করতে পারছি না। কক্ষ সংকট রয়েছে। রয়েছে জনবলের সংকট। এসব বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।








