খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা-ভদ্রদিয়া মধ্যবর্তী ভদ্রানদীতে নির্মাণাধীন সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী ওই রাস্তায় বালু ভরাট করার কথা থাকলেও বালুর পরিবর্তে মাটি ও ইটভাটার উচ্ছিষ্ট রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।এ নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদার। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্রীজের দুই পাশে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। কিন্তু কাজের সিডিউল তোয়াক্কা না করে বালির পরিবর্তে পরিত্যক্ত ইটভাটার মাটি মিশ্রিত বর্জ্য রাবিশ মিশিয়ে সংযোগ সড়ক ভরাট করা হচ্ছে। তিন ভাগ মাটির সাথে এক ভাগ রাবিশ মিশিয়ে কাজ করায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে লোক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ আলী, শহিদুল ইসলাম, লাভলু রহমান,শফিকুল ইসলাম, সোহাগ হোসেন,মিজানুর রহমান, ভ্যানচালক শহিদ ও মটর বাইক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার কাজে বালুর পরিবর্তে মাটি আর ভাটার বর্জ্য ব্যবহার করতে আগে কখনো দেখিনি। এভাবে কাজ হলে সড়কটি কয়েক দিনও টিকবে না। এবং বর্ষায় রাস্তায় এমন কাদা হয়েছে চলাচলের অনুপযোগী।
ভোগান্তির কথা তুলে ধরে পথচারী রাহিলা বেগম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। কাঁদামাটি আর রাবিশের কারণে কাদায় কাপড় চোপড় নষ্ট হয়ে হাঁটাই দায় হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম কষ্ট হচ্ছে।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রীজের কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রফিকুল ইসলাম ফকির বলেন, কাজে যা যা দেয়ার কথা তাই দিচ্ছি। পারলে ঠিকাদারের সাথে কথা বলো।সিডিউলের নিয়ম মেনেই নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে।
কাজের বিষয়ে ঠিকাদার বিশ্বজিৎ কুন্ডু জানান, স্থানীয়রা যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে সে জন্য ব্যক্তিগত খরচে ভাটার রাবিশ দিচ্ছি,এ খরচ অফিস আমাকে দিবে না। কাজের মান ঠিক রাখার জন্যই নিয়ম অনুযায়ী সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বলেন, ব্রীজের সংযোগ সড়কের কাজে সিডিউল বহির্ভূত বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। সরেজমিনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Please follow and like us:









