ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইমরান চৌধুরী নিশাদ।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার হোসেন কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ইমরান চৌধুরী নিশাদ বলেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় নারী জেবউন নেহার সম্প্রতি তাঁর বাবা, চাচা ও তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘ফুলবাড়ীতে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তাঁর দাবি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে এবং তাঁর বক্তব্য না নিয়ে একতরফাভাবে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৬ আগস্ট তাঁর বাবা ও চাচারা রাঙামাটি (ছোঁয়ানী) এলাকায় তাঁদের বৈধভাবে ভোগদখলে থাকা জমিতে দোকানঘর সংস্কারের কাজ করতে গেলে জেবউন নেহার ও তাঁর লোকজন বাধা দেন। তাঁর দাবি, জেবউন নেহারের জমির দাগ নম্বর ১৬৪৫ হলেও তাঁরা তাঁর বাবা-চাচাদের কেনা ১১৪৫ দাগের জমি নিজেদের বলে দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করছেন। একপর্যায়ে দোকানঘরের খুঁটি তুলে ফেলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানালে তাঁর বাবা ও চাচারা কাজ বন্ধ করেন। তবে ওই দিন রাতেই তাঁর বাবা মোজাহার চৌধুরী, চাচা মোমিনুল চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ চৌধুরী ও তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয় বলে জানান তিনি। ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন বলেও দাবি করেন।
ইমরান চৌধুরী নিশাদ বলেন, ‘আমি এনসিপি মনোনীত আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী। আমার রাজনৈতিক উত্থানে ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু লোক আমাকে ও আমার সংগঠনকে হেয় করতে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ আগস্ট দেশ টিভির অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদে তাঁকে ও এনসিপিকে জড়িয়ে একতরফাভাবে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সংবাদটির প্রতিবাদ জানান এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইমরান চৌধুরী নিশাদ আরও অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার কাঁটাবাড়িতে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়। ওই সালিশে সাংবাদিক হারুন উর রশিদ মধ্যস্থতা করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। ওই সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীরাও প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেন। এর জেরে ওই সাংবাদিক তাঁর ওপর ব্যক্তিগত ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন এবং সেই ক্ষোভ থেকে তাঁকে হেয় করতে সংবাদটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিক হারুন উর রশিদ দেশ টিভির লোগো ব্যবহার করে একটি ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্মানহানিকর ভিডিও প্রকাশ করেন। তাঁর ক্ষেত্রেও একইভাবে ওই লোগো ও বুমের অপব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন বলেও জানান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক হারুন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘থানায় করা অভিযোগের ভিত্তিতেই সংবাদটি করা হয়েছে। এনসিপি নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ ওই অভিযোগের চার নম্বর অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগের এক নম্বর অভিযুক্ত মোমিনুল চৌধুরীর বক্তব্য সংবাদে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ইমরান চৌধুরী যেহেতু একজন রাজনৈতিক নেতা, তাই সংবাদে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা স্বাভাবিক।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী শিহাব হোসেন, সিনিয়র সদস্য আহসান হাবিব এবং ইমরান চৌধুরী নিশাদের বাবা মোজাহার চৌধুরী, চাচা মোমিনুল চৌধুরী ও আব্দুল মাজেদ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









