মংলার মিঠাখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বাবুল শেখ এর বিরুদ্ধে একই সাথে ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সর্ব সাধারণের মধ্যে ব্যাপক হাস্যরস ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাবুল শেখ ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিএনপি’র মনোয়নে ২ বার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। দলটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন শেষে সর্বশেষ তিনি মিঠাখালি ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, বাবুল শেখ জন্মলগ্ন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বিএনপি সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার আশীর্বাদে তিনি রাতারাতি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগ নেতা বনে যান এবং ৬ নং ওয়ার্ড সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডারদের সাথে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মংলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উৎপল মন্ডল এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান অভিযুক্ত বাবুল শেখ বিএনপির লোক এবং আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী এ ব্যাপারে তিনি অবগত। তিনি অভিযুক্ত বাবুল শেখ এর বহিস্কার ও শাস্তি দাবি করেন।
মিঠাখালি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোপাল কৃষ্ণ কালু বলেন বাবুল শেখ তাদের দলের একজন নেতা ও ৬ নং ওয়ার্ড এর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। তার আওয়ামী লীগে যোগদান ও পদায়নের ব্যাপারে তিনি লোক মুখে শুনেছেন। দীর্ঘদিন বিএনপি’র সাংগঠনিক সভা না হওয়ায় তার ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে বাবুল শেখ পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়ায় এবং দল থেকে বহিষ্কার না করায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এখনো ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আছেন।
এ বিষয়ের মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃধা নজরুল ইসলাম বলেন, বাবুল আমার পরিচিত। গত বিশ বছর ধরে সে দলের সাথে জড়িত আছে। তবে যেহেতু বিএনপি ১৪ বছর ক্ষমতার বাইরে তাই চাপে পড়ে হয়তো আওয়ামী লীগে যোগদান করতে পারে। আমার জানামতে সে বিএনপির নিকট কোন পদত্যাগপত্র জমা দেয় নাই।









