পলাশের হাট বাজারে মৌসুমি কালোজাম উঠতে শুরু করেছে। এসময় গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফল ব্যাবসায়ীরা জাম গাছ কিনছে। পরে তা গাছ থেকে তুলে টুকরীতে করে বাজারে এনে পাইকারী বিক্রি করছে। কাউকে আবার তা খুচরাও বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
মৌসুমি ফল ব্যাবসায়ী ঈমান আলি জানান, বিরুপ আবহাওয়ার কারনে কালো জামের ফলন ভালো হয় নাই। যে গাছে গত বছর ২ মন কালোজাম পাওয়া যেতো, সে গাছে এবার পাওয়া যাচ্ছে ১ মন মাত্র। গাছের মালিকরা দাম নিচ্ছেন দ্বিগুণ। অন্য বছরের তুলনায় এবার বাজারে আমদানী কম। যতটুকো পাইকারী বাজারে উঠছে তার বেশীর ভাগই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে ফরিয়াদের মাধ্যমে।
চিকিৎসকরা জানান,পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই কালোজাম মানবদেহে রোগ জীবানু প্রতিরোধ করে থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হার্ড, কিডনিকে সুস্থ্য করতে এর রস বিরাট উপকারী। তবে আধাপাকা (ডাঁসা) জাম খাওয়া উচিত নয়। খালি পেটে জাম খাবেন না এবং জাম খাওয়ার পর দুধ খাবেন না। পাকা ফল ভরা পেটে খেলে অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকভাব হতে পারে।
এই ফলের খাদ্যগুণ কিন্তু অনেক দামী ফলকেও হার মানায়। জুন-জুলাই-অগস্ট, এই তিন মাস চুটিয়ে খেতে পারবেন কালো জাম। কালোজাম মানবদেহের বিপদজনক রোগ বালাই থেকে সুস্থ্য রাখতে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আবু নাদির এস এ সিদ্দিক জানান, কৃষকের বাড়ির আঙিনা পুকুরপাড়সহ বিভিন্ন জায়গায় অনেকটা অনাদরে জাম গাছ বেড়ে উঠছে। গাছগুলো যেহেতু বড় আকৃতির হয় এবং ফলের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও সরবরাহ কষ্টসাধ্য বিষয় হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় না। তবে জাম একটি লাভজনক ফল। যার যার অবস্থান থেকে যদি বাড়ির আশপাশে গাছ লাগিয়ে যত্ন করা হয় তাহলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের আয়ও বাড়বে। মৌসুমি ফলসহ পরিবেশবান্ধব গাছ লাগাতে সার্বিকভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।









