নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী কর্তৃক ২৯ টি নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা হলেও এ যাবৎ নির্বাচন কমিশন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। পক্ষান্তরে আ’লীগের নির্বাচন আচরণবিধি কর্মকান্ডকে সমর্থন করেন বলে দাবি তুলেছেন রাসিক নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার সময় মহানগর বিএনপির মালোপাড়া দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের অসহযোগিতা এবং বিশেষ দল হইতে নিয়োগ প্রাপ্ত পুলিশ বাহিনীর অত্যাচার, পক্ষপাতিত্ব ও গণগ্রেফতারের অভিযোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মেয়র প্রার্থী বুলবুল। এবং সেই সাথে ভোটগ্রহণের তিন দিন আগের থেকে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান তিনি। এসময় বুলবুল আরো বলেন, নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখিত ব্যয়ের চাইতে প্রায় ১০/১২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীতে নৌকা প্রতীকে লক্ষ্যাধিক পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন টাঙ্গানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলি প্রকাশ করে। আমরা অভিযোগ জানানোর পরেও নির্বাচন কমিশন কিছু জানে না বলে মিথ্যাচার করছে। গত ২২ জুলাই নির্বাচন কমিশন (৬০গুনিত৪৫) উর্ধ্বে সকল বেনার ও ফেস্টুন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিলে আমরা এবং সকল ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী অপসারণ করলেও নৌকা প্রার্থী প্রতীক বা আ’লীগ প্রার্থী অপসারণ করে নাই। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কেউ কিছুই করে নাই। নির্বাচন আচরণ বিধিমালা লংঘন করে মামলা অথবা ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সেই আদেশ লংঘন করে আ’লীগ প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীদের যোগসাজসে পুলিশ প্রশাসন গণ গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। এই গ্রেফতার অভিযানে এ পর্যন্ত আমাদের প্রায় ১৫০ জন নেতা কর্মী এবং পোলিং এজেন্টকে অন্যায় ও অমানবিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৩/৪ দিন ধরে দেখা যাচ্ছে রাজশাহীর কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী দ্বারা বি,এন,পি’র ১১ নং ওয়ার্ড, ২৩ নং ওয়ার্ড, ২৫ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করে বন্ধ করে দিচ্ছে এবং এসব ন্যাক্কারজনক কাজে পুলিশ প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। আমাদের প্রচার মাইকগুলোকে প্রচারে বাঁধা দান, কর্মীদেরকে মারধর এবং প্রচার কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। আচরণবিধি লংঘন ও গ্রেফতারকৃত কর্মীদের তালিকা ক্রমান্বয়ে নির্বাচন কমিশনে জনালেও কোন প্রতিকার হয়নি। আমরা রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত এবং মৌখিকভাবে বার বার অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে ভোট চুরি, ভোট ডাকাতি, ব্যাংক লুট, জনগণের মৌলিক অধিকার ধ্বংস, হত্যা,গুম,খুন করে এই সরকার,তার দল আওয়ামীলীগ এবং তার প্রতিনিধিদের সাথে জনগণের কোন সম্পর্ক নেই। তারা আজ জনবিচ্ছিন্ন। জনগণকে তারা প্রচন্ড ভয় পায়। যেভাবে তারা জনগণের কথা বলার অধিকার, মিছিল মিটিং করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে একই ভাবে তারা আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে নিতে চায়। তারা উম্মাদ হয়ে গেছে। সে জনই আজকে মনে হয় পুলিশ প্রশাসন এবং আ’লীগ যৌথভাবে জনগণের উপর অত্যাচার এবং নির্যাতন চালাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী বুলবুল কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো পোলিং এজেন্টসহ বিএনপি’র নেতাকর্মী ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনকারীদের গণগ্রেফতার বন্ধ করতে হবে। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। ভোটের তিন দিন আগে সেনাবাহীন মোতায়েন করতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে হবে। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। পক্ষপাতিত্ব পুলিশ প্রশাসনের আক্রমণ হতে নেতাকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভোট কেন্দ্র রক্ষা ও ভোট ডাকাতি রক্ষা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিমাতা সুলভ আচরণের শিকার বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শাহজাহান মিয়া, বিএনপি কেন্দ্রীয় কািমটির বন ও িেপরবশ বিষয়ক সম্পাদক ও মাহনগর বিএনপি’র সভাপতি এবং বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট নিপুন রায়, জেলা বিএনপি,সভাপতি এ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন প্রমুখ।এদিকে,
সিটি নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৭ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার আগে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভোটার ব্যতীত অন্য কোনো এলাকার বাসিন্দা করপোরেশনের সীমানার ভেতরে অবস্থান নিতে পারবেন না। বহিরাগতদের ভোট এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা ইতিমধ্যে প্রচার করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে বেশকিছু বিষয় নিশ্চিত করার জন্যও বলেছে। আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহীসহ সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,বগিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলেও যারা কর্মজীবী তাদের এলাকায় অবস্থান করতে কোনো অসুবিধা হবে না। তবে বাইরে চলাফেরার জন্য প্রয়োজন হলে তাদের কাজের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও এ নির্দেশনা শিথিলযোগ্য হবে। ইসির নির্দেশনাটি ৩১ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ বহিরাগতরা ১ আগস্ট থেকে আবার নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বরত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ এলে এবং তা নিয়ে অসন্তুষ্টি হলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে যাতে যাওয়া-আসা করতে পারেন, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ টিমগুলোকে সার্বক্ষণিক টহলে রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোয় যাতে যাতে কোনো প্রকার অনিয়ম না হয়, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সদা সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে।









