এন্টুনি ডেভিড নীল-
ঠাকুরগাঁওয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে ১২বছরের শিশুকে যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি পরিবার। শনিবার(১২ অক্টোবর) বেলা বারোটায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মোঃ একরাম আলী অভিযোগ করে বলেন, তার বড় ভাই আবেদ হোসেন একজন সৎ নিষ্ঠাবান ও ধর্মভীরু মানুষ। যুদ্ধকালীন সময়ে তার বয়স মাত্র ১২ বছর হওয়া সত্বেও তাকে যুদ্ধাপরাধীর মত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
এ সময় একরাম আলী প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দীন আহাম্মেদ ও তার ভাই সালাউদ্দীন আহাম্মেদ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের সাথে আবেদ হোসেন এর জমিজমা সংক্রান্ত মামলা বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালতে বিচারাধীন আছে যার মামলা মামলা নং-০৪/২০১৬,তারিখ ১৮/০১/২০১৬। অপরদিকে উল্লেখিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিবারের লোকের নেতৃত্বে দুষ্কৃতিকারী লোকজন আবেদ হোসেনকে মারধর করে তার ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিলে আবেদ আলী দশ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন। যার মামলা নং-সি,আর ৩৮/১৯,তারিখ ০৭/০৩/২০০৯।
এ অবস্থায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদ্বয় বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালত ও ফৌজদারি আদালতে বিচারাধীন মামলা তুলে নেয়ার জন্য আবেদ হোসেন এর উপর চাপ প্রয়োগ করে। আবেদ হোসেন সবকিছু উপেক্ষা করে মামলা পরিচালনা করা কালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদ্বয় আবেদ হোসেনকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে যুদ্ধাপরাধী বানানোর ষড়যন্ত্র শুরু করে। উপরোক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত হওয়ায় সেই কর্মকর্তার সহায়তায় আবেদ হোসেনকে যুদ্ধাপরাধীর তালিকা ভুক্ত করে এবং তাকে গত ২৫ জুন ২০১৯ তারিখে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। যার মামলা নং- আইসিটি-বিডি (আইসিটি-১) মিস কেস নং- ০৩/২০১৯। এই মামলার বাদী মোহাম্মদ নূরুল হক ওরফে গাঠি উপরোক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিবারের কাজের লোক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল তিন বছর।
এছাড়াও বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দীন আহাম্মেদ ও তার ভাই সালাউদ্দীন আহাম্মেদ এর মরহুম পিতা আব্দুল হালিম মিয়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর পক্ষে পূর্বপাকিস্তানে পিস কমিটি মেম্বার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকার পিস কমিটির মেম্বার আব্দুল হালিম মিয়াকে গ্রেফতার করেন এবং পরবর্তীতে সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি দেন। সংবাদ সম্মেলনে বড় পলাশ বাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দীন আহাম্মেদ ও তার ভাই সালাউদ্দীন আহাম্মেদ ব্যক্তিদ্বয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নজরুল ইসলাম তালুকদার বিচারপতি হওয়ায় এই ঘৃণ্য চক্রান্তে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবেদ আহোসেন এর ছোট ভাই একরাম আলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোন তদন্ত ছাড়াই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল আবেদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। হাইকোর্টে গিয়েও ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত কোন মামলার কাগজ পাওয়া যায় নাই। কাগজ প্রসেসিংয়ে আছে বলে তিনি জানান। একরাম আলী সাংবাদিকদের কাছে প্রকৃত সত্য ঘটনা তুলে ধরা পূর্বক তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আবেদ আলীর পরিবার সহ উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী,সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠু,সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল লতিফ,শাহিন ফেরদৌস সহ জেলার কর্মরত সাংবাদিক বৃন্দ।









