সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রকাশিত এক ফেসবুক পোস্ট। সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ হানিফ হোসাইন বাবু বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তার এই পোস্ট ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে হানিফ হোসাইন বাবু লিখেছেন, দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে যারা বিএনপির রাজনীতিতে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, মামলা-হামলা ও কারাভোগ সহ্য করেছেন, বর্তমানে তারাই দলীয় মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ যারা ৫ আগস্টের পরে দলে সক্রিয় হয়েছে, তাদেরই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার বক্তব্যে রাজনৈতিক ক্ষোভের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের বিষয়টিও জোরালোভাবে উঠে আসে। তিনি লেখেন, আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এক একজন একটি করে গাছ, আর হাইব্রিড যারা আছেন তারা গাছের ফল। ফল একদিন পঁচে যাবে, কিন্তু গাছগুলো থেকে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরে ত্যাগী বনাম হাইব্রিড নেতৃত্ব নিয়ে যে নীরব দ্বন্দ্ব চলছে, হানিফ হোসাইন বাবুর বক্তব্য সেই বাস্তবতারই বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন না, তারাই এখন বিভিন্ন পদ-পদবি ও রাজনৈতিক সুবিধা পাচ্ছেন। এতে তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন মুখের আগমন বেড়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই অতীতে সক্রিয় না থাকলেও বর্তমানে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পুরোনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্য দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকটের ইঙ্গিত দিলেও এটি একই সঙ্গে তৃণমূলের আবেগ ও আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন। কারণ বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে মামলা, হামলা ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যারা রাজনীতি করেছেন, তারা নিজেদের “আসল কর্মী” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন।
এদিকে হানিফ হোসাইন বাবুর এই পোস্ট নিয়ে সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার বক্তব্যকে তৃণমূলের বাস্তব চিত্র হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এ ধরনের মন্তব্য দলীয় শৃঙ্খলার জন্য বিব্রতকর হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছে, সামনে দলীয় পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে “ত্যাগী বনাম নতুন নেতৃত্ব” প্রশ্নটি বিএনপির রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।









