দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পাওনা টাকার জের ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাওনাদার তালা মারায় ব্যবসা হারিয়ে পথে পথে ঘুরছে ভাড়াটিয়া ব্যবসাযী।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলছেন পাওনা সাড়ে চার লাখ টাকার দাবীতে তাদের ১০ লাখ টাকার মালামালসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা মেরে দিয়েছে পাওনাদার। এতে তাদের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন স্থানীয় সরকার ও থানায় বিচার দিয়েও কোন প্রতিকার তাঁরা পায়নি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে পৌর এলাকার মধ্য গৌরীপাড়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে রাজা ও বাদশার দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে প্লাস্টিকের আসবাবপত্রের ব্যবসা শুরু করে, ফুলবাড়ী শহরের ভাড়াবাড়ীতে বসবাসরত চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উত্তর উজিরপুর গ্রামের লুৎফুল হকের ছেলে বাদশা মিয়া। ভাড়া নেয়ার সময় মাসিক সাড়ে সাত হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে ঘর মালিককে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা জামানত প্রদান করেন। ব্যবসা পরিচালনা করতে আরো টাকার প্রয়োজন হওয়ায়,অর্ধেক অর্ধেক লাভের চুক্তিতে ঘর মালিক রাজা ও বাদশার নিকট সাড়ে চার লাখ টাকা ঋন নেন। কিন্তু গত ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনার প্রাদুর্ভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সে ঘর মালিকের পাওনা সাড়ে চার লাখ পরিশোধ করতে পারেনি। করোনার প্রাদুর্ভাব শেষ হলে ভাড়াটিয়া ব্যবসাযী মহাজনের নিকট থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে এসে আবারো ব্যবসা শুরু করলে, পাওনাদার (ঘর মালিক) রাজা ও বাদশা তাদের সাড়ে চার লাখ টাকা পরিশোধের দাবীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা মেরে দেয। এরপর ভাড়াটিয়া ঘর মালিককে ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করে এবং মালামাল বিক্রি করে টাকা পরিশোধের অঙ্গিকার করলেও পাওনাদার ঘর মালিক তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিচ্ছেনা। এতে করে ওই ব্যবসায়ী ব্যবসা হারিয়ে এখন বিচারের আশায় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজা মিয়া কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ফুলবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমতাজুল ইসলাম পারভেজ বলেন বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা আপোষ রফার বৈঠক হলেও, ঘর মালিক রাজা ও বাদশা দু’ভাই আপোষ মানেননি, একারনে আপোষ করা সম্ভব হয়নি বলে বাদিদের থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এদিকে একজন ব্যবসায়ীর ঘরে তালা মারায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ব্যবসায়ীদের মাঝে, তারা ঘরমালিকের এই অসংলগ্ন আচরনের বিচার দাবী করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী থানার ওসি আশ্রাফুল ইসলাম বলেন ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে , তদন্ত শেষ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।









