সততা, মানবিকতা ও পেশাগত দায়িত্বশীলতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। রিকশায় ভুলে ফেলে যাওয়া নগদ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ৭২ ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধারকৃত টাকাগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জ শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় তিনটি ব্যাগ নিয়ে রিকশায় মালামাল বহন করছিলেন। অসাবধানতাবশত তিনি দুটি ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে গেলেও নগদ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা থাকা অপর একটি ব্যাগ রিকশাতেই রেখে চলে যান। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরই সদর থানার এসআই ইশতিয়াক ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেন। শহরের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা এবং ধারাবাহিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে টানা ৭২ ঘণ্টা পর গয়লা এলাকার রিকশাচালক হেলাল উদ্দিনের বাড়ি থেকে টাকার ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। পরে সব টাকা গণনা করে অক্ষত অবস্থায় প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমি প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। এত বড় অঙ্কের টাকা ফিরে পাব, তা কল্পনাও করিনি। সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে এসআই ইশতিয়াক ও থানার কর্মকর্তাদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের কারণেই আমার জীবনের একটি বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেলাম।
সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজগঞ্জ সার্কেল) মো. নাজরান রউফ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে। হারিয়ে যাওয়া সম্পদ প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। পুলিশের প্রতি জনগণের বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করতে আমরা মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের পাশে থাকব।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, একজন মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধার করে তার হাতে ফিরিয়ে দিতে পারা পুলিশের জন্য বড় প্রাপ্তি। আমাদের প্রতিটি সদস্য জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর এসআই ইশতিয়াকসহ তদন্ত টিম নিরলসভাবে কাজ করেছে বলেই এত দ্রুত টাকাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য।
উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এসআই ইশতিয়াক বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করি। ধারাবাহিক অনুসন্ধান, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে আমরা রিকশাচালককে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। পরে তার বাড়ি থেকে টাকার ব্যাগ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
টাকা হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজগঞ্জ সার্কেল) মো. নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম, এসআই ইশতিয়াকসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্য।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের এ ধরনের মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা আরও বাড়াবে এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।









