সিরাজগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড প্রদান, ন্যায়সঙ্গত পদোন্নতি কাঠামো প্রণয়ন এবং বেতন-সুবিধায় সমতা প্রতিষ্ঠাসহ তিন দফা দাবিতে আগামীকাল বুধবার সিরাজগঞ্জে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কালেক্টর চত্বরে তিন শতাধিক সহকারী শিক্ষক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ও ঐক্য পরিষদের নেতারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা। তিনি বলেন, আমরা বহুদিন ধরে ১১তম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন করছি। মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের দায়িত্ব ও শ্রম অনেক বেশি, কিন্তু বেতন-গ্রেড এখনো অযৌক্তিকভাবে কম। এ বৈষম্য দূর করতে হবে। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা বর্জন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে জটিলতা ও অনিয়ম রয়েছে। দীর্ঘদিন চাকরি করেও অনেক শিক্ষক পদোন্নতি পান না। একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পদোন্নতি কাঠামো এখন সময়ের দাবি। শিক্ষক সমাজকে উপেক্ষা করলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সভাপতি বলেন, মোঃ শহিদুজ্জামান পলাশ, আমরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ি, কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেবো না। প্রয়োজনে জেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায়েও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর। ১১তম গ্রেড শুধু আমাদের দাবি নয়, এটি যৌক্তিক অধিকার। দীর্ঘদিন বৈষম্য সহ্য করতে করতে শিক্ষক সমাজ ক্লান্ত। সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রুমানা আবেদিন বলেন, নারী শিক্ষকদের জন্য বিশেষ সংকট রয়েছে গ্রেডে বৈষম্য, পদোন্নতির জটিলতা, নিরাপত্তা ও সুবিধার ঘাটতি। ১১তম গ্রেড ও পদোন্নতি কাঠামো সংস্কার বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক সমাজ আরও উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারবে।
নেতারা জানান, মঙ্গলবারের অবস্থান কর্মসূচি কেবল শুরু। দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সিরাজগঞ্জ জেলায় আরও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।










