এস এম শামীম,আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিঃহঠাৎ করেই ‘কল্লাকাটা’ আতঙ্ক বিরাজ করছে বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। কল্লাকাটা চক্র এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শিশু-কিশোরদের তুলে নিয়ে হত্যা করে মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজবে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার সর্বত্র। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবক মহল। প্রাইমারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে সতর্কবস্থায় রয়েছে। তবে প্রশাসন বলছে, এটা নিছক গুজব।এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি চক্র প্রচার করছে ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেখানে অন্তত এক লাখ শিশু-কিশোরের কল্লা (মাথামুন্ড) দিতে হবে। সে মতে ৪২টি দল সারাদেশে শিশু-
কিশোরদের কল্লা সংগ্রহে কাজ করছে। এমনই গুজব ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার প্রতিটি ঘরে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শিশু-কিশোরদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রাইমারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে সতর্কবস্থায় রয়েছে। বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতির হার আগের চেয়ে কমে গেছে। অনেক অভিভাবক ভয়ে সন্তানদের স্কুলেও পাঠাচ্ছেন না। অথচ আগৈলঝাড়ায় কোথাও কল্লা কাটার ঘটনা ঘটেছে-এমন খবর বা তথ্য পাওয়া যায়নি। অপরিচিত লোক দেখলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়ছে ভিক্ষুক-ফেরিওয়ালা। অপরিচিত কেউ ভিক্ষা চাইতে গেলে গৃহস্থরা ভিক্ষা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। উপজেলার কোথাও না কোথাও শিশু ধরে নিয়ে গলা কাটছে এমন গুজবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মাঝে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস জানান, কল্লাকাটা বা ছেলে ধরা খবরটি গুজব। কিছু লোক মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য চারদিকে এ খবর ছড়াচ্ছে। যারা এ গুজব ছড়াচ্ছে তাদের সনাক্ত করার জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে। গুজব রটনা কারীদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এলাকাবাসীকে এমন মিথ্যা গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানান।এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, কল্লাকাটা বা ছেলে ধরা খবরটি গুজব এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিগত দুই মাসে এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ থানায় আসে নাই। কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য চারদিকে এ খবর ছড়াচ্ছে। যারা এ গুজব ছড়াচ্ছে তাদের সনাক্ত করার জন্য আমরা তৎপর আছি। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








