হালিম মোঃ জয়, কক্সবাজার থেকেঃ- এখন থেকে ১০ বছর আগে পশ্চিম বরিশুর ঢাকা কেরানীগঞ্জ মাস্টার বাড়ির মোঃ ফিরোজ আলাম সাহেবের কনিষ্ঠ পুত্র শরীফ আহমেদ অন্তর ও প্রতিবেশী নিম্নবিত্ত পরিবারের মাত্র এস এস সি পাশ সিনথিয়া আহমেদ (পপি) এর সাথে ৬ মাসের পরিচয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
অন্তরের বাবার বিশাল সম্পত্তি ও অর্থবিত্ত থাকা সত্বেও সে সিনথিয়াকে নিয়ে কাছেই ৫ হাজার টাকা দিয়ে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করে মোটামুটি সুখেই কাটছিলো তাদের জীবন।
দরিদ্র পরিবারের সুন্দরী মেয়েটির জায়গা হয়নি স্বামীর পৈতৃক বাড়িতে।
এতেও সিনথিয়ার সমস্যা ছিলোনা, কারন তাদের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন ছিল প্রবল। একে অপরকে ভালোবাসতো ভীষণরকম। এরই মধ্যে সিনথিয়ার কোল জুড়ে চলে আসে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। অন্তর প্রিয় সন্তানের নাম রাখেন আয়াত।
সময় গড়াতে থাকে সুখে- দুঃখে। একটা সময় দেখা যায় তাদের প্রিয় সন্তানটি বুদ্ধি ও বাক প্রতিবন্ধী। তার পরেও সংসারে খুব একটা অশান্তি ছিলোনা। স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব অন্তর মোটামুটি ভালোভাবেই পালন করছিলেন। ছেলের চিকিৎসাসহ সব কিছুই কোনরকমে চলে যাচ্ছিলো।
অন্তরের আয়ের উৎস ছিলো তার বাবার প্রতিষ্ঠিত একটি বিদ্যালয়ে কাজ করে। সিন্থিয়া তেমন উচ্চবিলাসী না হওয়ায় তার বিশেষ কোন অভিযোগও ছিলোনা।
আজ থেকে মাস সাতেক আগে তাদের ২য় সন্তানের আগমন টের পায় সিনথিয়া। দুজনের সম্মতিতেই সন্তানের আগমনের অপেক্ষা চলতে থাকে। এরই মধ্যে অন্তর একটু বেশি রকম পাল্টাতে থাকে। নিজের ফেইজবুক আইডি থেকে সিন্থিয়াকে ব্লকে রেখে দেয়।
অবশেষে ২০ জুন ২০১৮ অন্তর তার অসুস্থ সন্তান ও অসহায় স্ত্রীকে শোকের সাগরে ঢেলে দিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। কিছুদিন পর থেকে অন্তরকে তার বাবার বাড়িতেই থাকতে দেখা যায়। নিরুপায় সিন্থিয়া অসুস্থ সন্তান কোলে নিয়ে বারবার ছুটে যায় তার স্বামী ও পরিজনদের কাছে। তারা মেয়েটিকে অপমানিত ও লাঞ্চিত করে তাড়িয়ে দেয়।
এরই মধ্যে বলে রাখি, ঐপরিবার স্মার্ট ডন হলো অন্তরের মাদক ও রেস্টুরেন্টের ব্যবসায়ী দুলাভাই কায়সার বাসার ও বড় বোন ফেরদৌসী আলম। এই বোনটি সিনথিয়াকে শারীরিক ভাবেও বারবার নির্যাতন করে। তারও আগে অন্তরের পরিবার ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করার পর সিনথিয়ার অসহায় বাবা কিস্তিতে ঋণ নিয়ে তাদেরকে দুইলাখ টাকা প্রদান করে।
ইতোমধ্যে সিনথিয়ার বাড়ীভাড়া ও ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে যায়। অসহায় সিন্থিয়া হজ্জ ফেরত শশুরের কাছেও ফায়সালা চাইতে গিয়ে লাঞ্চনার স্বীকার হতে থাকে। পেটে সাত মাসের সন্তান আর কোলে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে সে অবশেষে দরিদ্র পিতার বাসায় উঠে।
অন্তরের বড়বোন সিনথিয়াকে বলে পেটের সন্তান নষ্ট করে ফেলতে এবং প্রতিবন্ধী ছেলেকে এতিম খানায় দিয়ে দিতে। কিন্তু সিন্থিয়া স্বামী সংসার ফিরে পাওয়ার লড়াই করতে থাকে।
এরই মধ্যে সিনথিয়া নিশ্চিত হয় যে তার স্বামী অন্তর কোন এক বড়লোকের মেয়ের সাথে প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে, ঐ মেয়েকে নিয়ে ঘোরে সিনথিয়ারই বাবার দেয়া অতিকষ্টের টাকায় কেনা মোটরসাইকেলে করে এবং সে ইয়াবাসহ অন্যান্য নেশা দ্রব্যে আসক্ত।
নিরুপায় সিনথিয়া অবশেষে আইনের আশ্রয় নেয়। যেখানেও আসলে টাকা পয়সা ছাড়া কারো সহায়তা আশা করা যায় না। দুনিয়া টাকার গোলাম। আর সিন্থিয়ারা নিরুপায়।
যাইহোক, অনেক অপেক্ষার পর গত বুধবার কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ অন্তরকে গ্রেপ্তার করে। এবং গত ১৮সেপ্টেম্বর কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ছাড়া পেয়ে যায়।
Please follow and like us:









