কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে এবার উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজের ফলাফল চরম বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটির ৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ০.১ শতাংশ। ফলাফল বিপর্যয় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কলেজ ইতিহাসে কলঙ্কময় অধ্যায় বলে লিপিবদ্ধ থাকবে আজীবন। এছাড়াও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ টিপু সুলতান বলেন শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের অবহেলার কারনেই কলেজের এই ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।
জানা গেছে, ২০১২ সালে চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজটি পৌরসভা এলাকায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীতে এটি উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সুনাম অর্জন করেছে। ২০২২ সালে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়। ২০২৩ সালে ৯০ জন, পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মোট ৫টি জিপি-এ ফাইভ সহ শতভাগ ফলাফল করে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান গৌরব অর্জন করেন। ২০২৪ সালেও চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজটি পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৫টি জিপিএ- ফাইভ সহ ৬১টি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৬জন পাশ করেন। কিন্তু ২০২৫ সালে ৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে মাত্র ১ জন পাশ করেছেন। এটিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কলেজ ইতিহাসে চূড়ান্ত কলংক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, কলেজ করে কি লাভ। নিয়মিত স্যার কলেজেই আসে না। তারা তাদের সংসার নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। এখানে কোন পড়ালেখা হয় না। পড়ার মান ভালো থাকলে অবশ্যই কলেজে আসতাম । তাই এবারে এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল চরম অবনিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর কলেজে যাবো না।
চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ টিপু সুলতাল বলেন, এবার আমাদের কলেজ থেকে মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। পাশ করেছে মাত্র ১ জন। ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য সকল শিক্ষার্থীদের ডেকে আনা হয়েছে। তারাই এই বিষয়ে অত্যান্ত মর্মাহত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সকল শিক্ষার্থীর অভিভাকদের আমরা একাধিকার বার তাগাদা দিলেও তাদের সন্তানদের প্রতি কোন খেয়াল করেনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের কলেজে অর্থনৈতিক সংকট চলতেছে। শিক্ষকদের ঠিকমতো বেতন দিতে পারছিনা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একে. এম. মীর হোসেন বলেন, আসলে এই বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভবিষ্যতে কিভাবে এই ফলাফল এড়ানো যায় সেইদিকে লক্ষ রাখা হবে।










