সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলবাসির যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল।
জীবিকার তাগিদে ধু-ধু বালু চর দাপিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন কয়েশ শিক্ষিত বেকার তরুণ।
উপজেলার যমুনার চরে অবস্থিত মনসুরনগর, চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর নাটুয়ারপাড়া, তেকানি ও খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। চর ও নদী এলাকার মানুষেরা শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতে হাঁটার কোন বিকল্প ছিল না। আর কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পরিবহণে পোহাতে হতো নিদারুণ ঝুর-ঝামেলা।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে গেছে চরাঞ্চলের চিত্রও। এখন পণ্য পরিবহণে রয়েছে ঘোড়ার গাড়ি আর মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে পারছেন সাধারন লোকজন।
জানা গেছে, এক সময় যমুনা নদীতে চলত বড় বড় স্টিমার, জাহাজ, লঞ্চসহ অন্যান্য নৌপথের পরিবহন। কালের বির্বতণে প্রমত্তা যমুনা তার যৌবন হারিয়ে এখন মৃতপ্রায়। নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে একদিকে যেমন বাস্তুহারা করছে চরের মানুষকে তেমনি শুষ্ক মৌসুমে যমুনা মরা খালে পরিণত হচ্ছে।
তবে স্থানীয় প্রবীণরা জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালের আগেও যমুনার পূর্ণ যৌবন ছিল। কিন্তু দেশের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর যমুনা নদী অস্তিত্ব হারাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে নদীশাসন না হওয়ায় গতিপথ পরিবর্তন হয়ে শুষ্ক মৌসুমে ধু-ধু বালুচরে রূপ নিয়েছে যমুনা।
ভূঞাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। স্কুল, মাদরাসা, হাসপাতাল, ব্যাংক-বীমা, কমিউনিটি সেন্টার, এনজিও প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মরত লোকজন প্রতিদিন চরাঞ্চলে যাতায়াত করে। এসব মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা মোটরসাইকেল। তবে চরের অনেক মানুষ এখনো হেঁটেই বিশাল বিশাল চর পাড়ি দেয়।
এখন চরাঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করেছে মোটরসাইকেল। ঘন বা বেশি বালুর মধ্যে খড় বিছিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। চরের মানুষজন অস্থায়ী ঘাটে নৌকা থেকে নেমে মোটরসাইকেলে চরে যাচ্ছে গন্তব্যে।
অন্য দিকে চরের মানুষকে পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করছে কয়েক শ’ চালক।
নাটয়ারপাড়া ঘাটের মোটরসাইকেল চালক আকবর আলী জানান, সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। তাদের ভরণ-পোষণের জন্যে এখন মোটরসাইকেল চালানোকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি।
আগে তিনি ইটভাটায় কাজ করেছেন। এখন তিনি প্রতিদিন মোটর সাইকেল চালিয়ে সাত’শ থেকে আট’শ টাকা আয় করেন। নাটুয়ারপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল সরকার জানান, “শুষ্ক মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ির পাশাপাশি মোটরসাইকেল চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ কমিয়েছে অনেকখানি।









