কুষ্টিয়ায় বন্ধুর জন্মদিনে অ্যালকোহল (মদ) পানে তিন তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় তিনজনকে আসামী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে নিহত ফাহিমের বাবা সাগর হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামী করা হয়েছে রাফি হোমিও হলের মালিক রফিকুল ইসলাম রফিক, ভাই হামিদুল ইসলাম ও কর্মচারী জুনায়েদ। ওই হোমিওপ্যাথি ঔষধের দোকান থেকে অ্যালকোহল(মদ) কিনে পান করে জাহিদুর রহমান সাজিদ, ফাত্তাউল ফাহিম ও পাভেল ইসলাম নামে তিন তরুণ মারা যান।
গতকাল সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ৩ লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্ব-স্ব পরিবারের নিকট সোপর্দ করা হয়। মরদেহ তিনটি শহরের থানাপাড়া ও আমলা এলাকায় পৌছলে সেখানে এক করুন চিত্র ফুটে উঠে। তিন যুবকের অকাল পরিনতিতে সকলে হতবিহবল হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। সন্তান হারানো স্বজনহারাদের শান্তনা দিতে এসে প্রতিবেশিরা চোখে পানি ধরে রাখতে পারছে না।
এদিকে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পরে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জানাযা শেষে ফাহিম ও পাভেলের লাশ কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয় এবং বাদ আছর আমলাপাড়া মসজিদে জানাযা শেষে সাজিদের মরদেহ কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
বিকেএসপির বাস্কেট বল টিমের খেলোয়াড় জাহিদুর রহমান সাজিদের জন্মদিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজ মাঠে পার্টির আয়োজন করে বন্ধু ও পরিচিতরা। জন্মদিনের পার্টি উপলক্ষে আগে থেকেই শহরের কোর্ট ষ্টেশনের সামনে অবস্থিত রাফি হোমিও হল থেকে বিষাক্ত অ্যালকোহল কিনে পার্টি চলাকালে বন্ধুরা মিলে সেই অ্য্যালকোহল পান করে। এর কিছুক্ষণ পর সাজিদসহ অন্তত ৬জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহিদুর রহমান সাজিদ, ফাত্তাউল ফাহিম ও পাভেল ইসলাম মারা যান। বাঁকি ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়। এরা হলেন- শান্ত, আতিক ও সুরুজ। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, এঘটনায় রাফি হোমিও হলের মালিক রফিকুল ইসলাম রফিক সহ তিনজনের নামে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।









