সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার নিউ ঢাকা রোড (চামড়াপট্টি) এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মোত্তালিব এন্ড ব্রাদার্স -এর প্রোপাইটর মো. আব্দুল মোত্তালিব আকন্দের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অবৈধভাবে ডিজেল ও কেরোসিন মজুদ, বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই মিনি পাম্প স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ডিজেল, মবিল, কেরোসিন ও গ্যাস সিলিন্ডার পাইকারি ও খুচরা বিক্রির পাশাপাশি গোপনে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও কেরোসিন মজুদ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ বা অজ্ঞাত উৎস থেকে সংগ্রহ করা জ্বালানি তেল দোকানের ভেতরে নির্মিত ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে সংরক্ষণ করে রাতের আঁধারে বিভিন্ন ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে সরবরাহ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিতে একটি মিনি ফিলিং পাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুদ ও বিক্রি জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকান প্রাঙ্গণে একটি ট্রাকে জ্বালানি তেল লোড করা হচ্ছিল। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তড়িঘড়ি করে কার্যক্রম বন্ধ করে দোকানে তালা লাগিয়ে স্থান ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিতভাবে বড় পরিসরে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ, বিক্রি এবং অনুমোদনহীন মিনি পাম্পের মাধ্যমে সরবরাহ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স মোত্তালিব এন্ড ব্রাদার্স-এর প্রোপাইটর মো. আব্দুল মোত্তালিব আকন্দ বলেন, ডিসি, এসিল্যান্ড ও ইউএনওর কাছ থেকেও অনুমতি রয়েছে। তাদের অনুমতির ভিত্তিতেই আমরা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
তবে তাঁর এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো লিখিত অনুমোদন, লাইসেন্স বা সরকারি নথিপত্র প্রদর্শন করা হয়নি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইন লঙ্ঘন করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে অবৈধ জ্বালানি মজুদ, অনুমোদনহীন মিনি পাম্প পরিচালনা এবং অবৈধ জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিপজ্জনকভাবে জ্বালানি সংরক্ষণের কারণে জননিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সিরাজগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি)
আফিফান নজমু বলেন, অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









