বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পুটিয়া এলাকায় স্বামীর বাড়ির সামনে এমবিবিএস (ইন্টার্ন) চিকিৎসক ডা. বন্যা মজুমদারের অনশনকে কেন্দ্র করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর এবার নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তার স্বামী, এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. শতদল মন্ডল। তিনি উপজেলার প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুভাষ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে।
ডা. শতদল মন্ডল দাবি করেন, পরিবারের সম্মানক্ষুন্ন ও হয়রানি করতে পরিকল্পিতভাবে বাড়ির সামনে অবস্থানের নাটক করেছে ডা. বন্যা মজুমদার। তার বিরুদ্ধে আনা পরকীয়া ও অন্যান্য অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, দাম্পত্য জীবনে কিছু পারিবারিক মতবিরোধ থাকলেও তিনি বারবার সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, আমার আপন ভাবির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। এর কোনো প্রমাণ নেই। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে তার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি স্বেচ্ছায় শাঁখা-সিঁদুর ত্যাগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি হবে।
ডা. শতদল আরও বলেন, আমি কোনো ধরনের সংঘাত চাই না। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ নিয়ে একবার গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। আমার বাবা তাকে বহুবার বুঝিয়েছেন, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বরং তার আত্মীয়-স্বজন ও বহিরাগতদের মাধ্যমে আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. শতদলের বাবা ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুভাষ চন্দ্র মন্ডল বলেন, আমরা সবসময় বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি। এখন বিষয়টি যেহেতু আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তাই আদালতের সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নেব। আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। আমরা কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি না এবং আইনের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল।
উল্লেখ্য, এর আগে এমবিবিএস (ইন্টার্ন) চিকিৎসক ডা. বন্যা মজুমদার স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, পরকীয়া, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে স্বামীর বাড়ির সামনে অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করেন। সেই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।









