জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা জামায়াতে ইসলামি। শুক্রবার বিকেলে জেলা শহরের মুক্তমঞ্চ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে আদালত সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার মুক্তমঞ্চে এসে সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া চাই। প্রধান উপদেষ্টার এ বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির প্রভাবে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, “বিএনপির জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তাই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত যাচাই করতে তারা ভীত।”
সমাবেশে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন—
“গণভোটের আগে ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন হবে না।”
বক্তারা বাংলার মাটিকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। “সেই ফ্যাসিস্টরা আর যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে” — এজন্য দেশের জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তারা। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জনপ্রিয়তা হারানোর পর বিএনপি এখন জামায়াতকে নিয়ে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে।
বক্তারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ দ্রুত জারি করতে হবে এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যেই সেই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজন করতে হবে। পাঁচ দফা গণদাবির বিষয়ও তারা তুলে ধরেন।
খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে এবং জেলা আমির মো. ইলিয়াছের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. এয়াকুব আলী চৌধুরী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইউসুফ, শিক্ষক প্রতিনিধি অধ্যক্ষ মো. আবুল হোসেন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
এছাড়াও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি মিনহাজুর রহমান, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি না হলে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতি ও রাতের ভোটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচন অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে হতে হবে।










