চাঁদপুর শহরের নৌ-টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া দু’টি যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় মেঘনা মোহনায় নদীর পানিতে পড়ে দুই হকার নিখোঁজ হয়ে যায়। এদের মধ্যে জমির হোসেন নামে আরেক হকার চাঁদপুর নৌ-থানার পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও দ্বীন ইসলাম নামে অন্য হকার নদীতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৯ ঘন্টা পর শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় চাঁদপুর নৌ-থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে চাঁদপুর মেঘনা নদীর মোহনায় ঢাকা-বরিশালগামী এমভি ধুলিয়া-১ নামক যাত্রীবাহী লঞ্চটি চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় অপর আরেকটি লঞ্চের ধাক্কায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। তবে অপর লঞ্চটির নাম এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর পৌর সভার ৭নং ওয়ার্ডের, সাবেক পৌর কাউন্সিল ও চাঁদপুর পৌর সভার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ সরকার তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল থেকে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সাভির্সের কর্মকর্তাকে জানালে দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় নৌ-পুলিশ অভিযান চালিয়ে হকার জমির হোসেনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে চাঁদপুর নৌ-থানার উপ-পরিদর্শক ইলিয়াস আহম্মেদ মাতাব্বর, মো: ফরহাদ রাব্বি ইমান সঙ্গীয় ফোর্স ও নদী ফায়ার স্টেশন চাঁদপুরের লিডার মো: মুছলেম মিয়াজি, ডুবরি আমিনুর রহমান ও শিমুল মিয়া রাতে মেঘনার তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজের কোন সন্ধ্যান করতে পারেনি। তারা জানান, নদীতে অনেক স্রোত থাকায় রাতে তল্লাশি করা যাচ্ছিল না।
এরপর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় এলাকাবাসী নিখোঁজ দ্বীন ইসলামের লাশ মেঘনা নদীর টিলাবাড়ি এলাকায় ভাসতে দেখে নৌ-পুলিশকে খবর দেয়। তারা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করে। মডেল থানার এ এস আই মো: আবু হানিফ লাশের সুরুতহাল রিপোর্ট করেন। পরে জেলা প্রশাসনের কাছে ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার আবেদন করলে লাশটি তার পিতা মো: হযরত আলী বেপারীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাদ জুম’আ নিহত হকার দ্বীন ইসলামের জানাজা শেষে রেলওয়ে কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মডেল থানার এ এস আই মো: আবু হানিফ বলেন, নিহত দ্বীন ইসলামের লাশ তারপিতার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
( নিউজ সম্পাদনায় হাফিজা আক্তার)








