২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • সকল সংবাদ
  • চৌদ্দগ্রামের ঘোলপাশা ইউনিয়নে দরিদ্রের ১০ টাকা কেজির চাল লুট ।

চৌদ্দগ্রামের ঘোলপাশা ইউনিয়নে দরিদ্রের ১০ টাকা কেজির চাল লুট ।

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুন ০২ ২০১৭, ২১:২৭ | 616 বার পঠিত

আব্দুর রহিম বাবলু,স্টাপ রিপোর্টার:-

‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এই শ্লোগানে দেশের অসহায় ও অতি দরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে খাদ্য বাস্তবায়ন কর্মসূচীর সুবিধা পাচ্ছেন না অনেক দরিদ্র জনগোষ্ঠি। উল্টো তাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল যাচ্ছে ধনীর ঘরে। বিক্রি হচ্ছে বাজারে। ভাগ বসাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরাও। আর গরীবের ক্ষুধা পেটেই রয়ে যাচ্ছে। এমন ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা জেলাজুড়ে । জেলার প্রায় উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে এই হরিলুট চলছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৬ নং ঘোলপাশা ইউনিয়নে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে হরিলুট চলছে। এ ইউনিয়নের ১০ টাকার কেজি দরের চালের বস্তা পাল্টিয়ে নতুন বস্তায় ঢুকিয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে এ চাল। ফলে গরীব মানুষরা পাচ্ছে না কিছুই ।
জানা যায়, এ ইউনিয়নে মোট ৫৭২ কার্ড এসেছে । প্রতি কার্ডে একজন ৩০ কেজি করে মোট ৫ দফায় চাল পাবে। কিন্তু এ চালগুলো বেশিরভাগ দরিদ্র কার্ড প্রাপ্তরা পাচ্ছেন না।গত ২৪ এপ্রিল প্রতি কার্ডে ৩০ কেজি করে চাল এসেছে। সরকারি চালের বস্তা পরিবর্তন করে ৫০ কেজির নতুন বস্তায় ঢুকিয়ে এ চাল বাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়। প্রতি ৫০ কেজি বস্তা চাল বাজারে ১ হাজার ৮০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে।এই ইউনিয়নে দরিদ্রদের চালের ডিলাররা হলেন যুবলীগ নেতা রাকিব ও ফরিদ। এদের সহযোগি বেলাল মেম্বার ও ইউপি যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ।ঘোলপাশা এলাকার হত দরিদ্র কার্ড ধারি সিরাজ মিয়া (৫৩) জানান, দরিদ্রের চালের কার্ড পেয়েছি। একবার চাল পেয়েছিলাম। পরের বার থেকে আর পাইনি। শুনেছি ডিলাররা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে এ চাল।নারায়নপুর গ্রামের জুলফু মিয়ার ছেলে আব্দুল হালিম জানান, আমি একবার চাল পেয়েছি। পরে আর পাইনি। সর্বশেষ যে চাল এসেছে তাও পাইনি। এ বিষয়ে ইউপি মেম্বারদের কাজে জানতে চাইছি। মেম্বাররা বলছে , এ চাল অন্য কাজে আসছে। এগুলো আপনাদের না।শালুকিয়া গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে সোহাগ জানান, শুনছি চাল বাজারে বিক্রি করে দিছে। তাই চাল পাইনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, হত দরিদ্রের চালের কার্ড দরিদ্র লোকজন পাওয়ার কথা থাকলেও সাবলম্বীরাও এই কার্ড পেয়েছেন। এরপর আবার এই চাল নিয়ে চলছে লুটপাট। বাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এই চাল। দরিদ্রদের অনেকেই এই চাল পাচ্ছেন না। ফলে সরকারের দেয়া এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র জনগোষ্ঠি।এ বিষয়ে ইউপি সচিব দেলোয়ার হোসেন জানান, যখন চাল আসে তখন আমরা যাই। সর্বশেষ দেখলাম বেশ কয়েকজন লোক চাল নিচ্ছে। চাল না পাওয়ার অভিযোগ কেউ করেনি। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী জাফর আলমের মুঠোফোনে কল দিলে মুঠোফোন সংযোগে তাকে পাওয়া যায়নি।

ক্ষমতায় আসলে জনগণকে ১০ টাকা কেজি দরে চাউল দিবে এমন প্রতিশ্রুতিতে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছর থেকে কেজি প্রতি ২৩ টাকা ভর্তুকি দিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে ওই সুবিধার আওতায় আনেন খাদ্য মন্ত্রনালয়। কিন্তু ইউপি প্রতিনিধি-ডিলারদের স্বেচ্ছাচারিতায় সরকারের সেই উদ্যোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত হতদরিদ্ররা।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4387638আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 8এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET