ইজারা নেওয়ার পর দখল বুঝে না পাওয়ায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষতিপূরণের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পদ্মা যুব উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ইলিয়াস মল্লিক। বাগেরহাট জেলা সদরের ডেমা ইউনিয়নের বড় বাশবাড়িয়া ও বান্দা দিয়া মৌজার একটি বদ্ধ জলাশয় ইজারা নিয়ে দখল না পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া জলাশয়টি দখলে রাখতে স্থানীয় কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০৮ সালে পদ্মা যুব উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ইলিয়াস মল্লিক বড় বাশবাড়িয়া মৌজার ৫.৫৭ একর আয়তনের ছ’ বাকি খাল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা নেয়। কিন্তু সে সময় আওয়ামী সরকারে থাকা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে ওই লীজকৃত জমিতে দখলে যেতে বাধা প্রদান করে। তাছাড়া তাকে সে সময়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তিনি বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পান নাই। বেকারদের আত্মকর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে লিজ নেওয়া ছ’বাকি খালটি বেদখল হয়ে যায় তার।
আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ওই সম্পত্তি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে আবারো স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধার সম্মুখীন হন। কিছুদিন পর জানতে পারেন ভেড়ি বাঁধের দুই পাশের দুটি খালের একটি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই যোদ্ধা শহীদ আলিফ আহমেদ সিয়ামের পিতা বুলবুল আহমেদ ও তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়েছে। অন্য অংশ স্থানীয়দের দখলে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। তারা বলেন, এ
ইজারাকৃত সম্পত্তি যদি ভুক্তভোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তার দেওয়া ইজারার সম্পূর্ণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দেওয়া হোক।
এ ব্যাপারে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, “ইলিয়াস মল্লিক সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন সম্পত্তির ভোগদখল করতে পারেননি এবং অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সরকারি সম্পত্তি জোর করে দখল করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ বেআইনিভাবে সরকারি সম্পত্তি ভোগদখল করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”









