ছাগলনাইয়ায় মাসুদা আক্তার (৩৩) নামক এক নারীকে মারধর ও বাসরত ভাংচুর করে স্ব-পরিবারে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আফতাব উদ্দিন পারভেজ গংদের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নিজকুঞ্জরা সাকিনের অন্তর্গত ৭নং ওয়ার্ড পুরাতন মুড়াদার বাড়ীতে ঘটনাটি সংঘটিত হয়। মাসুদা নিজকুঞ্জরা গ্রামের মৃত খুরশিদ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় মাসুদা আক্তার বাদি হয়ে আফতাফ উদ্দিন পারভেজ (৪১), রিয়াজ উদ্দিন রিংকু (৩০), নাজমা নাহার (৫৫), সানজিদা আক্তার (২০), রাশেদা আক্তার (৪০), জহির উদ্দিন খানসাব (৫২), জয়নাল আবেদীনসহ (৬২) অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনকে অভিযুক্ত করে ছাগলনাইয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, আমি ৮ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা। অপরদিকে যারা আমার উপর হামলা করে তারা উশৃঙ্খল, সন্ত্রাসী, লাঠিয়াল ও জোর জুলুমবাজ প্রকৃতির লোক।
আফতাফ উদ্দিন পারভেজ গংদের সাথে পূর্ব হতে আমার নিজকুঞ্জরা মৌজার নামজারী খতিয়ান নং- ২০১৩ এর বি,এস ৪১৫৮ দাগের ভূমি নিয়া বিরোধ চলছে এবং এ সংক্রান্তে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফেনীতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে (মামলা নং ৩৮০/২০২৬ইং)। একই ভূমি সংক্রন্তে ছাগলনাইয়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানী ৬৮/২৬ইং মামলা চলমান রয়েছে। উক্ত ২টি মামলার আক্রোশে উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে তারা আমার বসত বাড়ীতে এসে আমাকে ডাকাডাকি করিয়া অকথ্য ভাষায় গালাগালি করিতে থাকে এবং আমাকে জোর করে বশত ঘর থেকে বাহির করে দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি ৮ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা হওয়ায় তাৎক্ষনিক ভয় পেয়ে যাই এবং দরজা বন্ধ করে ভিতরে প্রবেশ করা মাত্রই তাদের হাতে থাকা লোহার রড, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসৌটা নিয়ে আমার ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে ঘরের ভিতর থাকা আসবাবপত্র ও তৈজসপত্র ভেঙ্গে ফেলে আনুমানিক তিনলাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এক পর্যায়ে তারা উপর্যপুরী আমাকে কিলঘুষি মারতে থাকে এবং আমার চুলের মুষ্ঠি ধরে লাথি মারতে মারতে মাঠিতে ফেলে দেয়। আমার পরিধেয় কাপড় ছোপড় ছিড়ে ফেলে শ্লীলতাহানী করে। আমি অন্তঃস্বত্বা হওয়ায় নিজের পেটকে বাঁচাতে গিয়েও রক্ষা পাই নাই। আমার গর্ভজাত সন্তান নষ্ট করার হীন মানসে আমি অন্তঃস্বত্ত্বা তলপেটে উপর্যপুরী লাথি মারিয়া আমাকে মারাত্মক বেদনা দায়ক যখম করে। আমার ১১ বছর বয়সী শিশু সন্তানকে কিল ঘুষি, লাথি মেরে মারাত্মক নীলাফুলা যখম করে। এরপর তাদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমি বাদীর মাথা লক্ষ্য করিয়া আঘাত করিলে তাহা ডান দিয়ে প্রতিহত করিলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হইয়া আমার পেটে ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নীলাফুলা জখম হয়। আমার গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের ১টি স্বর্ণের চেইন, যাহার আনুমানিক মূল্য-১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনাইয়া নেয় যার ফলে আমার গলায় যখম হয় এবং আমার বসত ঘরের আলমারীতে দেওয়ানী আদালতের মামলায় দাখিল করার জন্য রক্ষিত ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আলমারীর ড্রয়ার ভেঙ্গে নিয়ে যায়। আমার আত্মশৌর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পূর্বে আমাকে প্রকাশ্যে হুমকি ধমকি দিতে থাকে যে, আজকের মত বেঁচে গেলি, ভবিষ্যতে উক্ত বিষয়ে বাড়াবাড়ি করিলে বা মামলা মোকদ্দমা করিলে ফলাফল আরো ভয়াবহ অবস্থা করিয়া ফেলিবো। প্রয়োজনে তোদেরকে মেরে লাশ গুম করে ফেলা হবে।









