খুলনার ডুমুরিয়ায় একটি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুপরিন্টেন্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তার তার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থী , অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার চেচুড়ি গ্রামে অবস্থিত আন্তর্জাতিক কারিগরী বৃত্তিমুলক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এলাকবাসী, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকরা জানান, ২০১৫ সালে শিকদার আব্দুল হালিম প্রতিষ্ঠানের সুপরিন্টেন্ড হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এর দুই বছর পর থেকে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেন। সেখানে বসে সারাদিন আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে ওঠা বসা এবং আড্ডায় মেতে থাকেন, কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হবে বলে ভয়ভীতি দেখান।
শুধুু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে নারী ঘটিত একটি বিষয় নিয়েও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য নুর ইসলাম ও শাফায়াত আলী খান বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের ল্যাব সহকারী আব্দুল কাদেরের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে দৈনন্দিন আয়া হিসাবে নিয়োগ দেন সুপরিন্টেন্ড শিকদার আব্দুল হালিম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ওই নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে দুই সন্তানের জননী ওই নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়লে এলাকাবাসীর চাপের মুখে আব্দুল হালিম তাকে বিয়ে করেন।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠটিও তিনি নিজের আয়ত্বে রেখেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। মাঠটিতে কোন শিক্ষার্থীকে খেলা করতে দেয়া হয়না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তিনি নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন না বলে জানিয়েছেন অন্যান্য শিক্ষকরা, সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ মে তারিখ থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত একটানা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেননি সুপরিন্টেন্ড শিকদার আব্দুল হালিম।
এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোব বিরাজ করলেও আব্দুল হালিমের দাপটের কারনে কেউ কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এমতাবস্থায় গত ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আর প্রতিষ্ঠানে আসছেন না বলে জানান ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক কিশোর মৃধা। এসব ব্যাপারে ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় এই বিক্ষোব মিছিল করা হচ্ছে বলে জানান এলাকবাসী।
এসব ব্যাপারে জানার জন্য শিকদার আব্দুল হালিমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের (এ্যাডহক কমিটি) সভাপতি ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমীনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার জানা নেই। তাছাড়া যেকোন ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
Please follow and like us:










