২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

শিরোনামঃ-

ডুমুরিয়ায় শসার মূল্য কমে যাওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, চুকনগর.খুলনা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : আগস্ট ০৩ ২০২১, ১৮:১৪ | 635 বার পঠিত

খুলনার ডুমুরিয়ায় মৌসুমী সবজি শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ভাল দাম না পাওয়ায় কৃষকদের এখন মাথায় হাত।
জেলার ৫টি উপজেলায় সবজি ক্ষেত ও মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে বিপুল পরিমাণ শসার চাষ হয়েছে। প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে শসা যাচ্ছে রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের বড় শহর গুলোতে। করোনা পরিস্থিতিতে নিজ বাড়ির সামনে বসে নায্যমূল্যে ব্যবসায়ীদের কাছে শসা বিক্রি করতে পারছে না।
ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া গ্রামের শসা চাষি আসাদুজ্জামান বলেন, শসা একটি স্বল্প সময়ের সবজি। বিচি রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ফল আসে। ফল আসার পরে ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত গাছ ফল দেয়। ভাল পরিচর্যা এবং প্রয়োজনীয় সার দিলে এক একর জমি থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৯ মণ পর্যন্ত শসা বিক্রি করা যায়।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, খুলনা জেলার উপজেলা গুলোতে ১২০ হেক্টর জমিতে শসার চাষ হচ্ছে। এ বছর শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এরমধ্যে সব থেকে বেশি শসা উৎপাদন হয় ডুমুরিয়া উপজেলায়। এই উপজেলা থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে শসাসহ বিভিন্ন সবজি বিদেশ ও দেশের বড় বড় শহরে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘চলতি বছর হাজার টনের বেশি শসা উৎপাদন হবে খুলনা জেলায়। সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে শসা বিক্রি করায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছে না।
ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের মোঃ ফারুক সরদার বলেন, এক একর জমিতে শসার চাষ করেছি। গেল ১০ দিন থেকে বিক্রি শুরু করেছি। প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত শসা বিক্রি করি। এবার ফলনও যেমন বেশি হয়েছে। দাম কেজি প্রতি ৫টাকা হওয়ায় লেবার খরচ উঠেছে না।
শরাফপুর গ্রামের কৃষক মৃত্যুজয় বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে একটু দেরিতে বিভিন্ন সবজির বীজ বপণ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার শসার ফলন খুব ভাল হয়েছে। কিন্তূ দাম পাচ্ছি না। তবে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগও আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ৫ থেকে ৬ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এ রকম দাম থাকলে এবার আমাদের প্রচুর টাকা লোকসান হবে।
মির্জাপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর ১০ একর জমিতে শসার চাষ করেছি। ৩ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন একশো মণের ওপরে শসা বিক্রি করছি। আমার কৃষি ক্ষেত ও মাছের ঘেরে নিয়মিত ৮ জন শ্রমিক কাজ করেন। সব খরচ দিয়ে এ বছর শসার দাম কম হওয়ায় লক্ষাধিক টাকা লোকসান হবে বলে মনে করছি।
খুলনা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, খুলনা জেলায় সবজি আবাদের ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার সময়মত বীজ, সার ও ঋণ প্রবাহ সচল রেখেছেন। যার ফলে এ বছর বিভিন্ন সবজি বিশেষ করে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর খুলনার কয়েকটি উপজেলায় ৫০ হাজার টন শসার ফলন হবে। আমরাও কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা ও বাজারজাতকরণের পরামর্শ দিয়েছি। যাতে কৃষকরা লাভবান হতে পারে সে জন্য আমাদের সব ধরনের চেষ্টা রয়েছে।
Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4722736আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 7এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

 

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET