তুলসী একটি অতি পরিচিত ভেষজ গাছ। গ্রাম ও শহরে প্রায় বাড়িতেই তুলসীর গাছ দেখা যায়। অত্যন্ত ঔষধীগুণ সম্পন্ন এই গাছ প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগ উপশমকারী হিসেবে সর্বত্র ব্যবহার হয়ে আসছে। একটা বাড়িতে তুলসী গাছ থাকা মানেই বিশুদ্ধ বায়ুর আনাগোনা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়া আর মশার উপদ্রব থেকে মুক্ত থাকা। তুলনাহীন এই তুলসী গাছ প্রতিনিয়ত প্রচুর অক্সিজেন উৎপন্ন করে যা বেঁচে থাকার অপার সহায়ক আলহামদুলিল্লাহ। আজ তাই তুলসীর কিছু অজানা ও অনন্য ঔষধি গুণাবলী তুলে ধরলাম।
১। সর্দি ও কাশিতে- তুলসী পাতার রস + আদা বাটা + মধু ও পিয়াজের রস মিশিয়ে খেলে দ্রুত ভালো হয়।
২। ডায়রিয়া হলে- ৮/১০ টা পাতা সামান্য জিরার সঙ্গে বেটে ৩/৪ বার খেলে দ্রুত উপশম হয়।
৩। মুখের দূর্গন্ধে- দিনে ৩/৪ বার তুলসী পাতা চিবান।
৪। জ্বর হলে- পানিতে তুলসীর রস + গোল মরিচ ও মিছরি দিয়ে ফুটিয়ে ঠা-া করে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে।
৫। এলার্জীতে- তুলসীর রস + কাঁচা হলুদের রস + দূূর্বাঘাসের রস মিশিয়ে দিনে ২ বার খেলে উপাকার পাবেন।
৬। খাদ্য বিষক্রিয়া হলে- রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তুলসীর রস খাওয়ালে বিষ নষ্ট হবে।
৭। অজীর্ন বা বদহজমে- তুলসী ও গোলমরিচ বেটে খেতে হবে।
৮। চর্ম বা ঘা সারাতে- তুলসী পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ক্ষত স্থানে লাগাতে হবে।
৯। পুড়ে গেলে- তুলসীর রস + নারকেল তেল ফুটিয়ে ঠা-া করে লাগাতে হবে।
১০। যৌন দূর্বলতায়- প্রতিদিন ১ ইঞ্চি পরিমাণ তুলসীর শিকড় পানের সাথে খেতে হবে।
১১। ব্রণ ও বলিরেখায়- তুলসীর রস + নারকেলের পানি সমপরিমাণ মিশিয়ে নিয়মিত মুখ ও শরীরে লাগালে ত্বকের চমক বাড়বে।
১২। ঘামাচি ও চুলকানিতে- তুলসী পাতা ও দূর্বা ঘাসের ডগা বেটে গায়ে মাখতে হবে।
১৩। চোখের সমস্যায়- তুলসী পাতা ভেজানো পানি দিয়ে সকালে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
১৪। প্রস্রাবে জ্বালা- তুলসীর বীজ শুকিয়ে মিহি করে খেলে জ্বালাপোড়াসহ ইনফেকশনও ভালো হয়।
১৫। বোলতা, ভিমরুল, বিছা কামড়ালে তুলসীর রস গরম করে লাগাতে হবে।
১৬। চুল পড়ায়- তুলসী ও আমলকী বেটে আধা ঘণ্টা মাথায় লাগাতে হবে।
১৭। রক্তচাপ, কোলেস্টরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন আধা কাপ করে তুলসীর রস খেলে উপকার হবে।
লেখকঃ- প্রভাষক হাকীম মতিয়ারা বেগম, গাইনি বিভাগ, খুলনা ইউনানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,খুলনা।









