নিউজ কেন হচ্ছে, আর যেনো তার বিরুদ্ধে কোন নিউজ না করা হয়, নিউজ করলে শরীরে আর শক্তি থাকবে না জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ( সন্ধ্যা ৫ টা ৪৩ মিনিটে) তার (01746 435891) মোবাইল ফোনে সাংবাদিক অর্পণ মাহমুদকে হুমকী দিয়েছেন এই আলোচিত শিল্পী মেম্বর।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতেল ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য শিল্পীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয় স্হানীয় গনমাধ্যমসহ জাতীয় গনমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর, তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ শতভাগ সত্যতা পেয়েছেন জানান তদনন্ত কমিটি।
এর আগে আলোচিত শিল্পী মেম্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ভুক্তভোগী ৩২ জন মহিলার অভিযোগের তদন্তে শতভাগ সত্যতা পাওয়ার পর আবারও পুণ:তদন্তের আবেদন করেন শিল্পী মেম্বর। পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে । এছাড়াও তিনি দল করেন তার কিছুই হবে না বরং পরে অভিযোগকারীদের দেখে নেয়া হবে এমন হুমকি ধাকমি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। তার বিরুদ্ধে সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়ার নামে অসহায় নারী-পুরুষের কাছে সু-কৌশলে টাকা নিয়ে কোন প্রকার সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে টাকা ফিরত চাইলে উল্টো ভুক্তভোগীদের মারধর করাসহ অভিযোগের অন্তনেই। এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মায়াকান্না দেখিয়ে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমনটি অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এমনই সংবাদ প্রকাশ হয় বেশ কয়েকট অনলাইনসহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায়।
এরই এক পর্যায়ে আজ ( ১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৫ টা ৪৩ মিনিটে শিল্পী মেম্বার তার মোবাইল ফোন থেকে সাংবাদিক অর্পণ মাহমুদকে ফোন করে বলেন, আমি সেই আলোচিত শিল্পী মেম্বার আমাকে চিনতে পারছেন। এত লেখা লেখি আমার বিরুদ্ধে কেন হচ্ছে ভাই?
এ সময় সাংবাদিক বলেন, শুধু আমার পত্রিকা শুধু নয় অন্যান্য পত্র পত্রিকায় আপনার ববিরুদ্ধে তদন্তের নিউজ হচ্ছে,
শিল্পী মেম্বার বলেন,আর কারো লেখা আমার চোখে পড়ছে না শুধু আপনার লিখা চোখে পড়ছে। আপনি আমার বিরুদ্ধে কেন লিখছেন? ইউনিয়ন কার্যালয়ে বলেছিলেন নিউজ হবে না, নিউজ না করার জন্য আমি স্থানীয় এক নেতাকে টাকা দিয়েছি। তাহলে কেন নিউজ হচ্ছে আবার নিউজ করেন গায়ের জোর থাকবে না। এ ছাড়াও বেশ কিছু কথা বলে ফোন কেটে দেন।
উল্লেখ্য: মেম্বারের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বরাবর গত ১৭ই নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেন ৩২ জন ভুক্তভোগী নারী। এর পেক্ষিতে গত ৩ ডিসেম্বর এই অভিযোগের তদন্ত করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুন ও সমাজসেবা অফিসার আবু রায়হানের তদন্ত দল। বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদে তদন্ত দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে সটকে পড়েন ওই শিল্পী মেম্বর। এ সময় খবর পেয়ে সেখানে অভিযোগ জানাতে উপস্থিত হন প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী অভিযোগকারী। সে সময় বটতৈল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এ এ মোমিন মন্ডল উপস্থিত ছিলেন। ওই তদন্তে শিল্পী মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগের শতভাগ সত্যতা পেয়েছেন বলে রিপোর্ট দেন তদন্ত দল।
তদন্তের পরে তদন্ত দলের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুন এর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তদন্তে অভিযোগের শতভাগ সত্যতা পাওয়া গেছে এবং আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।
আরেক কর্মকর্তা আবু রায়হান এর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে এবং শিল্পি মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্ৰহনের সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন।
এদিকে অভিযুক্ত শিল্পী মেম্বারের তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পুনঃ তদন্তের জন্য আবেদন জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আমাকে অবহিত করা হয়নি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার মিনাল কান্তি দে’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে এবং এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিল্পী মেম্বার পুনঃতদন্ত চেয়েছেন। আমরা দুটি ফাইল একত্রিত করে জমা দেব স্যার যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই হবে।








