১১ তম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ১৬৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বুধবার দিনভর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। একইসঙ্গে তারা তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা বর্জন করেন। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষকরা শ্রেণিশিক্ষা বা পরীক্ষাকক্ষে কোনোভাবেই অংশ নিচ্ছেন না।
সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পরীক্ষার্থীদের অনেকে নিজ নিজ ক্লাসে প্রবেশ করতে দ্বিধায় পড়ে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, দপ্তরি, প্রাক্তন ছাত্র ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। কোথাও কোথাও প্রশ্নপত্র বিতরণ এবং কক্ষ-নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকি দেখা গেছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক-প্রশাসনের দ্বন্দ্বের শিকার হচ্ছে আমাদের সন্তানরা। আমরা চাই শিক্ষকরা ন্যায্য দাবি আদায় করুন, কিন্তু পরীক্ষার সময় এমন অবস্থায় পড়লে সন্তানরা মানসিক চাপে থাকে।
দাবি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন,
আমরা ১১ম গ্রেডসহ তিন দফা যৌক্তিক দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছি। সমাধানের আশ্বাস মিললেও কার্যকর উদ্যোগ নেই। বাধ্য হয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শাখা সভাপতি মোঃ শহিদুজ্জামান পলাশ বলেন, সহকারী শিক্ষকরা অবহেলার শিকার। প্রশাসনিক দায়িত্ব, ট্যুর, ফাইল সব আমাদের। অথচ গ্রেড ও পদোন্নতিতে আমরা বঞ্চিত। শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা না হলে শিক্ষার মানও উন্নত হবে না।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুনুর রশিদ বলেন, সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষায় সহযোগিতা করছে না, তবে আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন চলমান রয়েছে। প্রধান শিক্ষক, দপ্তরি, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহায়তায় সুষ্ঠুভাবেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।









