পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ভূমি–আইনশৃঙ্খলা কাঠামোকে সংবিধানের আওতায় আনার দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে কেন্দ্র করে বহু জটিলতা আজও রয়ে গেছে। তাই এ চুক্তির সাংবিধানিক বৈধতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশে বক্তারা পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে ‘কালো চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে একটি বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ২৮ বছরেও চুক্তির মাধ্যমে প্রত্যাশিত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এই সময় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮ বাতিল অথবা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে, সংগঠনটি বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল জামাল খান, কাজির দেউড়ি সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং শাক। উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সদস্য সচিব ইখতিয়ার ইমন, মুখপাত্র পাইশিখই মারমা, কার্যকরী সদস্য শাহীন আলম, পাইমংথুই মারমা প্রেম, মুজিব উল্ল্যাহ তুষার, রাকিব হোছাইন নওশাদ, ইসমাইল হাসান রাফিসহ আরও অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং শাক বলেন—২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পরও পাহাড়ের বাস্তবতা আগের মতোই রয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেএসএস সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এখনও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করছেন। কোন প্রক্রিয়ায় তাঁকে বহাল রাখা হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাব রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।তিনি আরও বলেন—
বাংলাদেশ একটি একক ও অবিভাজ্য রাষ্ট্র। এখানে কোনো অঞ্চলে পৃথক প্রশাসনিক সার্বভৌমত্বের সুযোগ নেই। সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের একমাত্র দায়িত্ব।
পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ সক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের মাঝে আস্থা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও দেশপ্রেম বাড়ানোর মতো কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
Please follow and like us:










