, , ,

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • অপরাধ দূনীর্তি
  • পিতার মৃত্যুর পরপরই দখলবাজরা ৫০ বছর ধরে বসবাসরত একটি বাড়ি দখল করে চার ভাই বোনকে করেছে ভিটেছাড়া মহেশপুর নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এতিম চারটি ভাই বোনের ঠিকানা এখন রাস্তায় !




পিতার মৃত্যুর পরপরই দখলবাজরা ৫০ বছর ধরে বসবাসরত একটি বাড়ি দখল করে চার ভাই বোনকে করেছে ভিটেছাড়া মহেশপুর নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এতিম চারটি ভাই বোনের ঠিকানা এখন রাস্তায় !

মোহাম্মদ হযরত আলী, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া,করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ০৪ ২০১৯, ২১:৫৬ | 1017 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

পিতার মৃত্যুর পরপরই দখলবাজরা ৫০ বছর ধরে বসবাসরত একটি বাড়ি দখল করে চার ভাই বোনকে ভিটেছাড়া করেছে। এতিম ওই চার ভাই বোনোর ঠিকানা এখন রাস্তায়। ভিটে থেকে উচ্ছেদ করার সময় ঘরের মালামাল পর্যন্ত নিতে দেয়নি প্রভাবশালীরা। এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ৭ মাস ধরে পথে পথে ঘুরছেন। পড়ার বই-খাতা নিতে না দেওয়ায় বড় বোন কবিতা এবার বিএসএস শেষ বর্ষের পরীক্ষাও দিতে পারেনি। অসহায় পরিবারটি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের। বড় বোন কবিতা খাতুন (২৩) জানান, তারা ক্রয় করা জমিতে ঘর বেঁধে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর বসবাস করছেন। জমিতে তাদের বসতবাড়ি আছে, আছে চাষাবাদ। তার পিতার মৃত্যুর একমাস পর তাদের তাড়িয়ে দিয়ে জমিটি দখল করে নিয়েছেন। ঘর তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তারা গ্রামেরই আব্দুল মজিদের বাড়িতে থাকছেন। ভাই দুটি বারান্দায় থাকেন, প্রাপ্তবয়ষ্কা হওয়ায় দুইবোন থাকেন ঘরে ভেতরে। নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এতিম চার ভাই-বোন হচ্ছেন কবিতা খাতুন (২৩), ইমরান হোসেন (২১), কেয়া খাতুন (১৩) ও আরাফাত হোসেন (১১)। এদের বাবা আবুল কাশেম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮ মাস পূর্বে মারা গেছেন। আর মা আনজুরা বেগম আনুমানিক ২ বছর পূর্বে সাপের কামড়ে মারা যান।

প্রতিবেশিরা জানান, ভিটেমাটি না থাকা আবুল কাশেম শশুরের দেওয়া জমিতে বসবাস করতেন। সরেজমিনে নিশ্চিন্তপুর গিয়ে দেখা যায় এতিম চার ভাই-বোন অন্যের বাড়িতে অবস্থান করছেন। গ্রামের আব্দুল মজিদ জানান, বাচ্চাদের মানবিক কারনে তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাচ্চাদের নানা আতর আলী ও এক চাচা আব্দুস সাত্তার এক একর ৪২ শতক জমি কিনেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জমিটি সরকারের ঘরে চলে যায়। ১৯৯০-৯১ সালের দিকে গ্রামের ৮ জন ভুমিহীনকে জমিগুলো বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। সেখানে শর্ত থাকে এই বন্দোবস্ত পাওয়া জমি তারা বিক্রয়, দান বা অন্য কোনো প্রকার হস্তান্তর করতে পারবে না। কিন্তু ভুমিহীনদের মধ্যে চারজন বন্দোবস্ত পাওয়া জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন। তাদের গ্রামের হাফিজুর রহমান, অহিদুল ইসলাম, ইমদাদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন জমিগুলো ক্রয় করেন। সরকারের বন্দোবস্ত দেওয়া জমি কেনাবেঁচা শুরু হলে এতিম ওই চার বাচ্চার পিতা আবুল কাশেম তার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের দপ্তরে বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি করেন। এতে দুইজনের বন্দোবস্ত চুক্তি বাতিল হয়। পিতার প্রতিশোধে ৮ মাস আগে আবুল কাশেম মারা গেলে তার সন্তানদের উচ্ছেদ করে বন্দোবস্ত পাওয়া ব্যক্তিরা। ওই জমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন তাদের একজন হাফিজুর রহমান জানান, জমিটি আতর আলী ক্রয় করেছিল ঠিক। কিন্তু জমির কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় সেটা সরকারের হয়ে যায়। সরকার পরবর্তীতে ৮ জনের মধ্যে বন্দোবস্ত দেন। এই বন্দোবস্তের কারনে ওই দাগে আবুল কাশেমের আর কোনো জমি নেই। এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভুমি) সুজন সরকারের মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET