২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • দেশজুড়ে
  • বাগমারার গোয়ালকান্দির বিলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুকুর খনন অব্যাহত

বাগমারার গোয়ালকান্দির বিলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুকুর খনন অব্যাহত

নাজিম হাসান, রাজশাহী করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ২৫ ২০২১, ২০:৩৪ | 850 বার পঠিত

রাজশাহী প্রতিনিধি: প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফসলি ধানি ও তিন ফসলি জমিতে ২৫টি পুকুর খনন এখনো চলছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সাজুড়িয়া-কনোপাড়া ও রামরামা বিলেতে। প্রায় হাজার বিঘা জমিতে কৃষদের জিম্মি করে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন চললেও পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক ভাবে নিরব ভুমিকায় রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসের সিও শহিদুল ইসলামের সাথে লাখ লাখ টাকায় বিনিময়ে রফাদফা করে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। এতে কৃষি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে এবং চাষাবাদ হুমকীর মুখে পড়ছে। এখনে এস্কেভেটর ড্রেজার মেশিনের সংখ্যা দ্বীগুন হয়েছে, এবং সকাল ৮টার পর থেকে চালু করা হয় ২০টি ড্রেজার মেশিন চলে ভোর রাত পর্যন্ত। কয়েক ঘন্টা বন্ধ রেখে আবারো শুরু করা হয় অবৈধ পুকুর খননের কাজ। এতে বর্ষা মওসুমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়বে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি অনাবাদি এবং পাড়া-মহল্লার বাড়ি-ঘরে ডুকে পানি বন্ধ হয়ে পড়ে থাকবে। অপরদিকে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন করা যাবে না।কিন্তু অবৈধ পুকুর খননকারিরা উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ফসলি জমিতে চালিয়ে যাচ্ছে হরদম পুকুর খনন। এলাকাবাসি জানান,প্রবাভশালী জাফর মাষ্টার,ভাটা আজাদ,মৃত রহম আলীর ছেলে কাউছার ও দুলাল,মৃত নিরানজন বৈরাগীর পত্র নির্মল বৈরাগী,মৃত ভুষি মন্ডলের ছেলে দুলু মন্ডল,মসফিকুর প্রামানিকের ছেলে মস্তাক ওরুফে জীবন প্রামানিক,মৃত দুলাল ফৌজদারের ছেলে আনোয়ার আলী ফৌজদার,মতৃ নাজির সানার ছেলে এবাদুল্ল্যা হক সানা,সামাদ আলী সরকারের ছেলে,লতিফ সরকার,সুজন,মিঠন,আবজাল,শামসুদ্দিন,সুমন,পিন্টু,কামালসহ অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন ও কৃষকদের জিম্মি করে পুকুর খনন অব্যাহত রাখলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিরব রয়েছে। তবে অনেক কৃষক প্রভাবশালী অবৈধ পুকুর খননকারীদের নাম বলতে ভয় পেতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে ড্রেজারের ড্রাইভাররা বলেন, আমাদেরকে পুকুর খননকারীরা ঘন্টা প্রতি মাটি খননের জন্য ভাড়া করে নিয়ে এসেছে।তাই আমরা রাত দিন চব্বিশ ঘন্ট মাটি খনন করি।এবং ড্রেজার গুলো এখনো চলছে তাহলে আমাদের কি অপরাধ আমরাতো ভাড়াায় কাজকরি। রামরামা গ্রামের ইফসুব,জলিল,সালাম,রহিম বলেন এভাবে অবৈধ পুকুর খনন চলতে থাকলে আমাদের এলাকার কৃষকেরা ও গবাদী পশুর খাদ্যের সংকট দেখা দেবে। গোয়ালকান্দি ইউপি সদস্য আবেদ আলী মোল্লা বলেন, প্রসাশনকে ম্যানেজ করে চলছে বাগমারার গোয়ালকান্দি যশের বিলের রামরামা ও সাজুড়িয়ায় অবৈধ পুকুর খনন।এই তিন ফসলি জমি অবৈধ ভাবে পুকুর খনন কারীদের বিরুদ্ধে আমি রাজশাহী জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার,বিভাগীয় কমিশনার,বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারি (ভুমি) কমিশনার বরাবর দরখাস্ত করেছি তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, বর্ষাকালে যশের বিলের চারিদিকে প্রায় ৩ থেকে ৪শ মৎস্যজীবী মাছ শিকার এবং বিলের পানি নেমে গেলে সেই কৃষি জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এখন তারা বেকার হয়ে পড়াই এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এবং ব্যবসার নামে ফসলি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করলেও কেউ এগিয়ে আসছে না বলে তিনি দাবি করেন। কৃষকদের অভিযোগ প্রভাবশালীদের হাত থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ফসলি জমিতে নিয়মবর্হিভূত অপরিকল্পিত পুকুর খনন বন্ধের জন্য দফায় দফায় ভুক্তভোগীরা একাধিকবার স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু পুকুর খননকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। গোয়ালকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সরকার বলেন,ভাই পুকুর খননকারীরা আমার সাথে কনো যোগাযোগ করেনি। এবং শুনেছি পুকুর খননকারীরা এলাকার বর্তমান আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে টাকার বিনিময়ে যোগসাজ করে প্রকাশ্যে পুকুর খনন রাত দিন করে যাচ্ছে। গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক বকুল খরাদী জানান,আমি সোমবার দুপুরে এলাকার লোকজনদের সাথে নিয়ে পুকুর খননের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহম্মাদের সাথে যোগাযোগ করি। এবং তিনি আমাদেরকে বলেন, গোয়ালকান্দির যশের বিল নিয়ে অনেকে আমার কাছে এসে এবং সেখানে অভিযান চালানো হবে। এছাড়া সিও শহিদুল ইসলাম আমাকে জানায় গোয়ালকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সরকার একক ভাবে ৭০ বিঘা পুকুর খনন করছে । এবিষয়ে বাগমারা সহকারি (ভুমি) কমিশনার মাহমুদুল হাসান বলেন,একটি অভিযোগ পাওয়াগেছে। এবং তদন্ত সাপেক্ষে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4389511আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 2এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET