বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে নির্বাচন না দিয়ে অবৈধভাবে দখলে রেখেছে বাগেরহাট বাস মালিক সমিতি। রীতিমতো সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে অবৈধভাবে লাভবান হচ্ছে তারা এমনই অভিযোগ বাগেরহাটের বাস মালিকদের। বাস মালিক সমিতির নামে দায়িত্ব পালনকারীদের কারা দায়িত্ব দিয়েছে, কেনই বা তারা জোরপূর্বক সমিতির দায়িত্ব পালন করছে এবং কার ইশারায় চলছে এই সমিতি, সমিতির নামে উত্তোলনকৃত চাঁদার টাকা কে খরচ করছে, কোথায় জমা হচ্ছে, কে রাখছে হিসাব এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজছে প্রত্যেকটা বাসের মালিক। এসব তালবাহানা বাদ দিয়ে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সমিতিতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার দেশত্যাগের পর বিএনপি সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস মালিক সমিতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিএনপি’র পক্ষ থেকে মশিউর রহমান সেন্টুকে আহবায়ক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাগেরহাট জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব এবং সাবেক বাস মালিক সমিতির নেতা শাহজাহান মিনা, জিয়াউদ্দিন শেখ ও আখতারুজ্জামানকে সদস্য করে ০৫ সদস্য বিশিষ্ট বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণা করবে তারা।
কমিটি গঠনের কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। একবার চেষ্টা করেও অজানা ইশারায় বন্ধ হয়েছে নির্বাচন। কমিটির মেয়াদ ৪৫ দিন থাকলেও অদ্যবধি পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকার আয় ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন হচ্ছে এই কমিটির মাধ্যমে। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলেও নির্বাচন দিচ্ছে না তারা। কি স্বার্থ রয়েছে তাদের? কে নাড়ছেন এই কলকাঠি এসব প্রশ্নের উত্তর চেয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন বাস মালিকেরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বাস মালিক সমিতির কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এক জরুরী সভা বাসস্ট্যান্ডের লেক ফুজি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দুইটি এজেন্ডার মধ্যে একটি ছিল নির্বাচন সংক্রান্ত। বিস্তারিত আলাপ আলোচনার পর নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করে খুলনা জিডিএলজিকে অবগত করানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে মোতাবেক কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক মশিউর রহমান সেন্টুকে অবগত করানো হলে তিনি চিঠিতে স্বাক্ষর করবেন না বলে জানান এবং এই চিঠি তৈরি করার এখতিয়ার কে দিয়েছে বলে কৈফিয়ৎ তলব করেন। এ ঘটনার পর বাস মালিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জাকির হোসেন, নীহার রঞ্জন সাহা, স্বাধীন মোল্লা, সর্দার লিয়াকত আলী সহ বেশ কয়েকজন বাস মালিক জানান, ৫ তারিখের পরের বিএনপি এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সাথে বিদেশ ভ্রমণকারীদের সমন্বয়ে গঠন করা বাস মালিক সমিতির কমিটি নিজেদের ইচ্ছা খুশি মত সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগত বছরে বিরোধী দলের আন্দোলন সংগ্রামে এদেরকে কোথাও দেখা যায় নাই। বাস মালিক সমিতি দখল করে তারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তারা ৫০ টাকা করে বাড়তি চাঁদা আদায় করছে। কে দিয়েছে তাদের এই ক্ষমতা। কার সাথে কথা বলে তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর কোথায় বা যাচ্ছে এই টাকা। এভাবে একটি প্রতিষ্ঠান চলতে পারেনা। অনতিবিলম্বে বাস মালিক সমিতির নির্বাচনের দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস মালিক সমিতির আহবায়ক মশিউর রহমান সেন্টু বলেন, আমাদের কমিটির বিষয়ে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম এবং সমন্বয়ক এম এ সালাম অবগত রয়েছেন। কমিটির মেয়াদ ৪৫ দিন ছিল যা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। নির্বাচন আমরাও চাই, নানা প্রতিকূলতার কারণে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হবে। অতিরিক্ত চাদা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বাস মালিক সমিতির সদস্য সচিব ইসলাম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত কোন চাঁদা আমরা আদায় করছি না। অফিস কর্মচারীদের মাধ্যমে আয় ব্যয়ের হিসাব রাখা হচ্ছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, বর্তমান কমিটির বিষয় আমি অবগত রয়েছি। অনেক বাস মালিক নির্বাচনের কথা বলেছে। আজকে এক বাস মালিকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি বাস মালিকরা সম্মিলিতভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করবে। পরবর্তীতে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস মালিক সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।
Please follow and like us:










